শীতের ছোঁয়ায় ভিজবে বাংলা! কালীপুজোর আগেই বৃষ্টির পূর্বাভাস নিয়ে কী বার্তা দিল হাওয়া অফিস

বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্তে ফের সক্রিয় আবহাওয়া। কালীপুজোর আগে দক্ষিণবঙ্গের ছয় জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা জানাল হাওয়া অফিস।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাঙালির কালীপুজো দরজায় কড়া নাড়ছে। পুজোর সাজসজ্জা, কেনাকাটায় ব্যস্ত শহর-গ্রাম জুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। এর মধ্যেই আবারও বদলাতে শুরু করেছে বাংলার আবহাওয়া। সকালের দিকে হালকা কুয়াশা, রাতে শিরশিরে ঠান্ডা— যেন আগেভাগেই চলে এসেছে শীতের হাওয়া। কিন্তু সেই সঙ্গে এসেছে নতুন চিন্তা— কালীপুজোর আগেই বৃষ্টির পূর্বাভাস

হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে ফের সক্রিয় হচ্ছে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া। ইতিমধ্যেই বর্ষা বিদায় নিয়েছে, কিন্তু Post Monsoon Rain থেকে রেহাই নেই। আবহাওয়া দফতরের মতে, বঙ্গোপসাগরের ঘূর্ণাবর্ত ও ঠান্ডা বাতাসের সংস্পর্শে বৃষ্টি হতে পারে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, কালীপুজোর আগেই বৃষ্টি দেখা দিতে পারে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, দার্জিলিং, কালিম্পং এবং জলপাইগুড়ি জেলায়। এই বৃষ্টির মাত্রা হবে হালকা থেকে মাঝারি। যদিও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই, তবুও উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে আর্দ্রতা ও বাতাসের প্রভাবে আকাশ মেঘলা থাকতে পারে।

কলকাতার আবহাওয়া তুলনামূলক মনোরম থাকবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। সকালে মৃদু কুয়াশা, দুপুরে রোদ ঝলমলে আকাশ এবং সন্ধ্যায় ঠান্ডা হাওয়া— এই তিনের মিশ্রণেই কেটে যাবে পুজোর দিনগুলো। যদিও আবহাওয়া দফতর এখনও শীতের আনুষ্ঠানিক আগমন ঘোষণা করেনি, তবে অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকেই শীতের আমেজ আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা।

গত কয়েক মাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, অক্টোবর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে ভেজেছে বাংলা। একের পর এক নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের কারণে দুর্গাপুজোর আগেও ভেসেছিল তিলোত্তমা। অতিবৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়েছিল কলকাতা ও আশপাশের জেলা, যা সাধারণ মানুষের স্বস্তি কেড়ে নিয়েছিল। তাই বর্ষা বিদায়ের ঘোষণায় কিছুটা হলেও স্বস্তি পেয়েছিল রাজ্যবাসী।

কিন্তু কালীপুজোর আগে ফের বৃষ্টির পূর্বাভাসে আবারও খানিকটা ম্লান হলো সেই আনন্দ। তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৃষ্টি খুব বেশি প্রভাব ফেলবে না পুজোর আনন্দে। মূলত ঘূর্ণাবর্তজনিত হালকা বৃষ্টি হবে, যা রাতের দিকেই বেশি দেখা যেতে পারে।

হাওয়া অফিসের এক আধিকারিক জানান, “এই বৃষ্টি মৌসুমি পরিবর্তনের ফল। এখন থেকে দিন-রাতের তাপমাত্রার ব্যবধান বাড়বে। ফলে, ক্রমশ সকালের দিকে ঠান্ডা অনুভূতি আরও বাড়বে।”

সুতরাং, এই কালীপুজোয় শীতের শিরশিরানি অনুভব করতে প্রস্তুত হোন, তবে ছাতা ও রেইনকোট রাখতেও ভুলবেন না। কারণ, শীতের আমেজে ভিজতে পারে গোটা বাংলা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন