নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যের গত বিধানসভা নির্বাচনের আগে যেভাবে বিজেপির পালে হাওয়া লেগেছিল, বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর সেই হাওয়া এখন স্তিমিত। যেভাবে একের পর এক নেতা যোগ দিয়েছিলেন গেরুয়া শিবিরে, সেইভাবেই একের পর এক নেতা দল ছাড়ছেন। মুকুল রায় থেকে রাজীব ব্যানার্জি আর সদ্য অর্জুন সিং। সব কিছু সামলাতে দলের কাঠামোয় বড় বদল চায় রাজ্য বিজেপি, শক্তি বাড়াতে বাংলায় গুজরাত মডেলে কাজ করতে চাইছেন সুকান্ত মজুমদার।
আরও পড়ুনঃ চাকরি গেল আরও ৪ শিক্ষকের, নিয়োগ দুর্নীতিতে বরখাস্তর সংখ্যা বেড়ে ২৭৩
বিধানসভায় ভরাডুবির কারনে লোকসভায় প্রাপ্ত ১৮টি আসন যে আসন্ন ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে ধরে রাখা যাবেনা তা বুঝেছে রাজ্য বিজেপি। তাই যে সব রাজ্যে বিজেপির সংগঠন মজবুত, সেখানকার অনুকরণেই বাংলাতেও দলকে সাজাতে চাইছে গেরুয়া শিবির। মডেল হিসেবে ধরা হয়েছে গুজরাত এবং উত্তরপ্রদেশ কে। ঠিক করা হয়েছে, প্রত্যেক গ্রামে ‘অঞ্চল কমিটি’ ও শহরে ‘ওয়ার্ড কমিটি’ তৈরি করবে বিজেপি। একই সঙ্গে ব্লক স্তরেও একটি করে কমিটি রাখা হবে।

এখনকার পরিকাঠামো অনুযায়ী রাজ্য বিজেপিতে বুথের উপরে রয়েছে শক্তিকেন্দ্র ও মণ্ডল কমিটি। তার উপরে রয়েছে জেলা কমিটি। নতুন পরিকল্পনায় জেলা কমিটির নীচে রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে আরও কিছু কমিটি তৈরি করা হবে। বিজেপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বুথ, মণ্ডল, জেলা এবং রাজ্য কমিটির সভাপতি পদ ঠিক হয় নির্বাচনের মাধ্যমে। তবে এখন যে অঞ্চল, ওয়ার্ড, ব্লক কমিটি তৈরি হবে সেটা হবে মনোনয়নের মাধ্যমে। সভাপতির পরিবর্তে এই কমিটিগুলির মাথায় আহ্বায়ক (কনভেনার) থাকবেন।
গুজরাত মডেলে বঙ্গ বিজেপি-কে সাজাচ্ছেন সুকান্তরা, থাকছে বড় চমক

এদিকে গোষ্ঠীদ্বন্দ অব্যাহত রয়েছে রাজ্য বিজেপিতে। কদিন আগেই বিজেপিতে প্রকট হয়েছিল দিলীপ-সুকান্ত দ্বন্দ্ব। যার জেরে বিজেপির রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ছেড়েদেন দলের অন্যতম মুখপাত্র ও উদ্বাস্তু সেলের চেয়ারম্যান মোহিত রায়। দলের রাজ্য কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে দিলীপবাবু ২০ জুন ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ পালনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাবে কর্ণপাত করেনি সুকান্ত গোষ্ঠীর নেতারা।

সূত্রের খবর, এই নিয়ে দলের কার্যনির্বাহী কমিটির হোয়াটস্অ্যাপ গ্রুপে কথা তোলেন মোহিতবাবু। এর পরেই বিজেপির আইটি সেলের প্রীতম ভট্টাচার্য গ্রুপের সেটিংস বদলে দেন। যাতে গ্রুপ অ্যাডমিন ছাড়া অন্য কেউ সেই গ্রুপে কোনো পোস্ট করতে না পারেন। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনায় অপমানিত হন মোহিতবাবু। ব্যাপক ক্ষুব্ধ হন তিনি, তৎক্ষণাৎ গ্রুপ ছেড়ে দেন।



