ভোটের দিনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশের বার্তা দিলেও বাস্তবে নানা অশান্তির ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠল বাংলাদেশ। একাধিক জায়গায় ককটেল বিস্ফোরণ, সংঘর্ষে মৃত্যু এবং ভোটকেন্দ্রে কম উপস্থিতি—সব মিলিয়ে নির্বাচনের দিনেই উদ্বেগের আবহ তৈরি হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে সদর উপজেলার মাকহাটি গুরুচরণ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের কাছে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ পরপর ককটেল বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বিস্ফোরণের পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়।


এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার একটি কেন্দ্রে মৃত্যু হয় এক পোলিং অফিসারের। মৃত মহম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম (৪৮) পেশায় শিক্ষক ছিলেন। ভোট শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং অজ্ঞান হয়ে যান। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি।
খুলনায় ভোটকেন্দ্রের সামনে সংঘর্ষে প্রাণ হারান বিএনপি-ঘনিষ্ঠ নেতা মহিবুজ্জামান কচি। অভিযোগ, বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির সময় আঘাত পান তিনি। যদিও জামায়াতের দাবি, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
গোপালগঞ্জ সদরেও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা সামনে এসেছে। সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ একটি ভোটকেন্দ্রে বিস্ফোরণে আহত হন আনসারের দুই সদস্য-সহ তিন জন। তাঁদের মধ্যে এক নাবালিকাও রয়েছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পড়াশোনার স্কুলে তৈরি হওয়া একটি ভোটকেন্দ্রে সকাল থেকেই ভোটার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম। প্রথম দুই ঘণ্টায় ২,৫৪০ ভোটারের মধ্যে মাত্র ১১৪টি ভোট পড়ে।
এর মধ্যেই ভোট দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এই নির্বাচন ‘নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন’। তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ভোট উৎসব পালনের আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে তাঁর মহিলা পোলিং এজেন্টদের হেনস্থা করা হচ্ছে এবং প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বিস্ফোরণ, মৃত্যু ও অভিযোগে ভোটের দিনেই চাপা উত্তেজনায় বাংলাদেশ।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



