বাংলাদেশে ভূমিকম্পের তীব্র ঝাঁকুনিতে শুক্রবার ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে রাজধানী ঢাকার কসাইটুলি এলাকায়। স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে অনুভূত এই কম্পনে পাঁচ তলা ভবনের বড় রেলিং হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ঠিক সেই মুহূর্তে রাস্তায় হাঁটছিলেন যে কয়েকজন পথচারী, রেলিংয়ের ইটকাঠের ধ্বংসাবশেষ তাঁদের উপর আছড়ে পড়ে। ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হন অনেকে।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে তিন পথচারীর, যাঁদের মধ্যে একজন ডাক্তারি পড়ুয়া রাফিউল ইসলাম। ঢামেকের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাফিউল সেদিন ক্লাস শেষে বাসায় ফিরছিলেন। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, রাফিউলকে হাসপাতালে নেওয়ার পরেও কয়েক ঘণ্টা লড়াইয়ের পর শেষরক্ষা হয়নি। বাকি দু’জনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
Bangladesh Earthquake: ভূমিকম্পে ধসে পড়ল বহুতলের রেলিং, ঢাকায় তিন পথচারীর মৃত্যু
কসাইটুলির এই ভবনটি দীর্ঘদিন ধরেই জীর্ণ ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। ভবনের পাঁচ তলার সিমেন্ট-ইটের একটি প্রশস্ত রেলিং ভূমিকম্পের জোরে মুহূর্তেই ভেঙে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, কম্পন এতটাই আচমকা ছিল যে মানুষ সরে যাওয়ার সুযোগই পাননি। দমকল, পুলিশ এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।

আহতদের মধ্যে ৫০ জনেরও বেশিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, তাজউদ্দীন মেডিক্যাল কলেজ এবং নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক, তাঁদের ঢাকা মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এক শিশুও গুরুতরভাবে আহত হয়েছে।
প্রথম আলো-সহ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্ঘটনার ভয়ঙ্করতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে চারপাশের ঘিঞ্জি পরিবেশ। ঢাকার পুরনো এলাকায় বহু বহুতলই অনিরাপদ—এমন মন্তব্য করেছেন শহর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, Bangladesh Earthquake-এর মতো মাঝারি মাত্রার কম্পনেও যদি কাঠামো ভেঙে পড়ে, তাহলে রাজধানীর ভবন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠবে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকেও এসেছে আরেকটি মর্মান্তিক খবর। সেখানেও ভূমিকম্পের কম্পনে রাস্তার ধারেকার এক পুরনো দেওয়াল ধসে ১০ মাসের একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবার ভেঙে পড়েছে শোকে।
আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভে (USGS) জানিয়েছে, Bangladesh Earthquake-এর মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৫.৫। ভারতের জিওলজিক্যাল সার্ভে বলছে তা ছিল ৫.৭। উৎসস্থল ছিল নরসিংদীর পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে, মাটি থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর উৎসস্থল হওয়ায় কম্পন বেশি তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে বলে জানান ভূতাত্ত্বিকরা।
দুর্ভাগ্যের বিষয়, এই কম্পনের প্রভাব পড়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গেও। কলকাতা, হুগলি, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন টের পেয়ে অনেকেই বাড়ি এবং বহুতল থেকে রাস্তায় নেমে আসেন। তবে পশ্চিমবঙ্গে কোনও বড় ক্ষতির খবর নেই।
একের পর এক ধস ও কাঠামোগত বিপর্যয় উঠে আসায় ভবন নিরাপত্তা নিয়ম প্রয়োগে বাংলাদেশ সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, Bangladesh Earthquake-এর মতো মাঝারি মাত্রার কম্পনে যে ভবনগুলো ভেঙে পড়ছে, সেগুলো বহু পুরনো এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
দুর্ঘটনার পর কসাইটুলিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভবনের মালিকের বিরুদ্ধে অবহেলা ও অনিরাপদ কাঠামো রাখার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। আহতদের চিকিৎসা ও মৃতদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।







