বাংলাদেশ ক্রিকেটে আবারও প্রশাসনিক অস্থিরতা। ক্রিকেটারদের প্রতিবাদে যাঁকে সরাতে বাধ্য হয়েছিল বোর্ড, লিগ শেষ হতেই তাকেই ফিরিয়ে আনা হল পুরনো ক্ষমতার আসনে। এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভে ফুঁসছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। তাঁদের কাতর আর্তি—“দয়া করে ক্রিকেটকে বাঁচান।” প্রশ্ন উঠছে, খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রতারণা করেই কি চলছে Bangladesh Cricket Board?
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (BPL) চলাকালীন ক্রিকেটারদের আন্দোলনের মুখে নাজ়মুল ইসলাম-কে সাময়িকভাবে সরানো হলেও, টুর্নামেন্ট শেষ হতেই ফের তাঁকে অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে হতাশ ও ক্ষুব্ধ খেলোয়াড়েরা মনে করছেন, তাঁদের প্রতিবাদকে গুরুত্বই দেয়নি বোর্ড।
বোর্ডের বৈঠকেই ফের ক্ষমতায় নাজ়মুল
বাংলাদেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ডেইলি স্টার-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, শনিবার বোর্ডের বৈঠকে নাজ়মুল ইসলাম BCB ডিরেক্টরদের পূর্ণ সমর্থনই পেয়েছেন। সেই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তাঁকে আবারও ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান করা হবে।
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রিকেটার ব্যঙ্গ করে বলেন,
“এটা খুব ভালো খবর। এতে পরিষ্কার বোঝা যায়, এখানে সব কিছু কী ভাবে চলে।”
ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের ক্ষোভ
এই ইস্যুতে প্রকাশ্যে মুখ খুলেছেন Cricketers’ Welfare Association of Bangladesh-এর সভাপতি মহম্মদ মিঠুন। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য,
“আমরা আমাদের দাবি প্রকাশ্যে জানিয়েছি, বোর্ডও প্রকাশ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এখন কে সেই প্রতিশ্রুতি ভাঙছে, সেটা পরিষ্কার। দায়িত্ব তাদেরই। দয়া করে ক্রিকেটকে বাঁচান—এর বেশি কিছু বলার নেই।”
বিতর্কের সূত্রপাত কোথায়?
পুরো ঘটনার সূত্রপাত নাজ়মুল ইসলামের একটি বিতর্কিত মন্তব্য থেকে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ যদি ২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায়, তাতে বোর্ডের কোনও আর্থিক ক্ষতি হবে না। বরং ক্ষতি হবে ক্রিকেটারদের, কারণ তাঁরা ম্যাচ ফি পাবেন না। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, সুযোগ পেলেও বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ধারাবাহিক ভাবে পারফর্ম করতে পারেন না।
এই মন্তব্যে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ঘোষণা করে, নাজ়মুল ইসলাম পদত্যাগ না করলে তাঁরা মাঠে নামবেন না। পরিস্থিতি দ্রুত ঘোরালো হয়—বয়কট করা হয় ম্যাচ।
বয়কট, বরখাস্ত, তারপর ‘ইউ-টার্ন’
BPL চালু রাখতেই শেষ পর্যন্ত নাজ়মুল ইসলামকে সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করতে বাধ্য হয় বোর্ড। তাতে আপাতত পরিস্থিতি শান্ত হয়, ক্রিকেটাররা ফের মাঠে নামেন। কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষ হতেই আবার পুরনো ছবিতে ফেরা—যা ক্রিকেটারদের কাছে ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ বলেই মনে হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, এই ঘটনা শুধু এক ব্যক্তিকে ঘিরে বিতর্ক নয়। এটি বাংলাদেশ ক্রিকেটে প্রশাসন বনাম খেলোয়াড়দের আস্থার গভীর সংকটের ছবি। প্রশ্ন উঠছে—এই ভাবে কি সত্যিই ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা সম্ভব?




