টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কট ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন করে বিতর্কের ঝড়। প্রাক্তন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজ়রুলের মন্তব্য ঘিরে এবার সরাসরি বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের সহকারী কোচ মহম্মদ সালাহউদ্দিন। তাঁর দাবি, বিশ্বকাপ না খেলতে পারার ধাক্কায় দলের কয়েকজন ক্রিকেটার মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, এমনকি দু’জন খেলোয়াড় ‘কোমায় থাকার মতো’ অবস্থায় পৌঁছে গিয়েছিলেন।
কয়েকদিন আগে আসিফ নজ়রুল দাবি করেছিলেন, ভারত সফর ও বিশ্বকাপ বয়কটের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) ও ক্রিকেটারদেরই ভূমিকা ছিল। সেই বক্তব্যের কড়া বিরোধিতা করে সালাহউদ্দিন প্রকাশ্যে নজ়রুলকে ‘মিথ্যা বলার’ অভিযোগে কাঠগড়ায় তুলেছেন।


বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “উনি একজন শিক্ষক, তাও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের। শিক্ষকরা সাধারণত কম মিথ্যা বলেন। কিন্তু কীভাবে এত সহজে প্রকাশ্যে ভুল তথ্য বলা যায়? ক্রিকেটারদের ঘাড়ে দোষ চাপানোয় আমি তাদের সামনে কীভাবে দাঁড়াব?”
সহকারী কোচের দাবি, বিশ্বকাপ খেলতে না পারার সিদ্ধান্ত ক্রিকেটারদের উপর গভীর মানসিক প্রভাব ফেলেছিল। তাঁর কথায়, “প্রত্যেক ক্রিকেটার বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন দেখে। মুহূর্তের মধ্যে সেই স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। দেশের স্বার্থে তারা আত্মত্যাগ করেছে, কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে বড় ক্ষতি হয়েছে।”
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করে সালাহউদ্দিন জানান, দলের অন্তত দুই ক্রিকেটার কয়েকদিন এমন মানসিক অবস্থায় ছিলেন, যা তিনি ‘কোমার মতো’ পরিস্থিতি বলে বর্ণনা করেছেন। “ওরা প্রায় পাঁচদিন সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল। আবার মাঠে ফিরিয়ে আনতে পারাটা আমাদের জন্য বড় সাফল্য,” বলেন তিনি।


এই মন্তব্যের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপ বয়কট সিদ্ধান্তের নেপথ্যে আসল কারণ কী ছিল এবং দায় কার—তা নিয়ে আলোচনা আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।








