বাংলা বলায় হেনস্থা? পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যুতে অভিষেকের প্রশ্নে সংসদে চুপ কেন্দ্র

তৃণমূলের তোলা অভিযোগে উত্তপ্ত সংসদ, বাংলা ভাষাভাষী শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ তকমা ও পুশব্যাক নিয়ে কেন্দ্র কোনও স্পষ্ট জবাব দিল না

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কাজের সন্ধানে যাওয়া বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা বলায় ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকরা হেনস্থার শিকার—এই অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের তোলা রাজনৈতিক আলোচনাকে আরও চড়া করেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপিশাসিত কয়েকটি রাজ্যে বাংলার শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি’ আখ্যা দিয়ে পুশব্যাক করা হচ্ছে। এই ইস্যুর উত্তরে সংসদে কেন্দ্র কোনও স্পষ্ট বক্তব্য না দেওয়ায় প্রশ্ন আরও জোরদার হয়েছে।

শীতকালীন অধিবেশনে তৃণমূল সাংসদ ও সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তুলেছেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, “বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য কেন পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে বৈষম্য করা হচ্ছে?” তিনি জানতে চান, কতজন পরিযায়ী শ্রমিক দেশের বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করেন এবং হেনস্থার বিরুদ্ধে কেন্দ্র কী ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রকের উত্তর ছিল ই-শ্রম পোর্টাল ও অসংগঠিত শ্রমিকদের জাতীয় ডাটাবেসের তথ্যেই সীমাবদ্ধ। বাংলা ভাষাভাষী শ্রমিকদের উপর নির্যাতনের অভিযোগে কেন্দ্র কোনও মন্তব্য করেনি।

Shamim Ahamed Ads

বাংলা বলায় হেনস্থা? পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যুতে অভিষেকের প্রশ্নে সংসদে চুপ কেন্দ্র

এদিকে তৃণমূল নেতৃত্ব সংসদের ভেতরে-বাইরে ক্ষোভ জানিয়েছেন কেন্দ্রের নীরবতা নিয়ে। তাঁদের দাবি, বাংলা বলায় ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকরা হেনস্থার শিকার—এর প্রমাণও রয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা বীরভূমের সোনালি বিবির পরিবারের। দিল্লিতে কাজ করতেন তাঁরা। স্থানীয়দের সন্দেহে তাঁদের ‘বাংলাদেশি’ বলে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পুশব্যাক করা হয়। তিন মাস জেল ও ছ’মাসের দুর্বিষহ সময় কাটিয়ে সোনালি বিবি ও তাঁর নাবালক সন্তান দেশে ফিরেছেন। কিন্তু তাঁর স্বামী-সহ পরিবারের আরও কয়েকজন এখনও বাংলাদেশে আটকে।

সোনালি বিবি দেশে ফিরে জানিয়েছেন, তাঁরা সম্পূর্ণ বৈধ ভারতবাসী হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র ভাষার কারণে এমন নিগ্রহের শিকার হন। তাঁর বক্তব্য, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচেষ্টাতেই তাঁরা দেশে ফিরেছেন।

এই প্রসঙ্গেই আবার গরম হচ্ছে রাজনৈতিক মহল। তৃণমূলের প্রশ্ন—বাংলা বলায় ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থার ঘটনা কেন্দ্র কি দেখতে পাচ্ছে না? কেন বাংলার শ্রমিকদের ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে? তাঁদের সুরক্ষায় কেন্দ্র কী ব্যবস্থা নিয়েছে?

বাংলা বলায় হেনস্থা?
বাংলা বলায় হেনস্থা?

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের উত্তর এখনো অস্পষ্টই। কেন্দ্র বলছে, ই-শ্রম পোর্টালে দেশের কোটি কোটি অসংগঠিত শ্রমিক নথিভুক্ত হয়েছেন। তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু বাংলার শ্রমিকরা ভাষাগত কারণে নির্যাতিত হচ্ছেন কি না—সে বিষয়ে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া নেই।

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিষয়টি শুধুমাত্র শ্রমিকদের অধিকার নয়, বরং ভাষাগত বৈষম্যফেডারেল কাঠামো সম্পর্কেও প্রশ্ন তুলছে। কারণ পরিযায়ী শ্রমিকেরা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হলেও তাঁদের সুরক্ষা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীরবতা উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিক কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে যান। ভাষা, পরিচয় ও নথির অভাবে ঝুঁকি তাঁদের সঙ্গী হয়েই থাকে। কিন্তু বাংলা বলায় ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থা—এই অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাজনৈতিক লড়াইয়ের মধ্যেও মানবিক আলোচনাটি চাপা পড়ে যাচ্ছে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এখন দেখার বিষয়, চলতি অধিবেশনে কেন্দ্র কি কোনও পরিষ্কার জবাব দেয়, নাকি বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত