‘বাংলার বাড়ন্ত বাচ্চা’ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চান। নোটিশের জবাবে প্রতিক্রিয়া বাবুলের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ‘বাংলার বাড়ন্ত বাচ্চা’ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইবেন। আমাকে নোটিস কেন? বাবুল সুপ্রিয় নাম না করে ফের অভিষেক বন্দোপাধ্যায় কে আক্রমণ শানালেন বাবুল সুপ্রিয়। শনিবার আইনি নোটিশ পাওয়ার পর বাবুল ফের পর পর কয়েকটি ট্যুইট করেন। যার মধ্যে একটিতে বাবুল লিখেছেন “একজন বাংলার বাড়ন্ত বাচ্চা আমাকে প্রেমপত্র পাঠিয়েছে। যা আইনজীবীদের লেখা। আমি নিশ্চিত এটা শিশুসুলভ ঔদ্ধত্য ছাড়া আর কিছুই না। কারণ আর যাই হোক এটা ভালবাসা হতে পারে না।”

আরও পড়ুনঃ শুধুমাত্র শিশুদের জন্যে অত্যাধুনিক হাসপাতাল। সুখবর হাওড়াবাসীর জন্যে।

উল্লেখ্য, মানহানির অভিযোগে শনিবার কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বাবুল সুপ্রিয়কে আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক অভিযোগ করেছেন বাবুল সুপ্রিয় তাঁর বক্তব্যের কিছু অংশ বেছে নিয়ে ট্যুইট করেছেন যা অত্যন্ত মানহানিকর। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে বাবুল সুপ্রিয় কে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন তাঁর আইনজীবী সঞ্জয় বসু।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাবুল সুপ্রিয় কে ওই উদ্দেশ্য প্রণোদিত এবং মানহানিকর টুইট প্রত্যাহার করে বাবুলকে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে। আর যদি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তা না করেন তাহলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত করা হবে তাকে। কিন্তু ক্ষমা চাওয়ার পরিবর্তে একাধিক ট্যুইট করেন বাবুল। নাম না করে অভিষেক কে খোঁচা দেওয়ার পর অন্য একটি ট্যুইটে বাবুল তৃণমূলকেও নিশানা করেছেন।

‘বাংলার বাড়ন্ত বাচ্চা’ মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চান। নোটিশের জবাবে প্রতিক্রিয়া বাবুলের। তিনি লিখেছেন, “তৃণমূল ‘করে’ যাঁরা ‘করে খায়’, তারা ছাড়া আর সারা বাংলা মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী কে ‘অমানবিক বলে, বলছে ও ইতিহাসও চিরকাল বলবে | একশো কুড়িজনের বেশী বিজেপি কর্মীবন্ধুকে খুন করেছে দিদির তৃণমূল ! চুপটি করে সব দেখে গেছেন উনি – নৃশংসভাবে পুলিশকে অপব্যবহার করেছেন। এটাই তো সত্য। অমানবিক অমানবিক’ শব্দটিও ধ্রুব সত্য এবং বিরোধীদের মুখে তা শুনে শুনে তা মনে শব্দটি গেঁথে যাওয়াই স্বাভাবিক | তাই হয়তো ‘মুখ্যমন্ত্রীর অমানুষিক পরিশ্রমের কথা বলতে গিয়ে ভুল করে ‘অমানবিক’ সেই ‘সত্যটি’ মুখ ফস্কে বেরিয়ে গেছে !

এইতো ব্যাপার তার জন্য তো অভিষেক-বাবুমশাই বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইবেন – আমাকে নোটিস কেন? নাকি পিসি-ভাইপো সম্পর্ক বলে ‘তিনি’ দলের সব নিয়মের উর্ধে? আর অমানবিক আর অমানুষিক বা অতিমানুষিক শব্দগুলির মধ্যে যে আকাশ পাতাল তফাৎ আছে তা তো অভিষেকবাবুর জানা কথা তাই না? মানলাম আমাকে আইনী নোটিস পাঠানো অভিষেকের অধিকার কিন্তু মানুষের হাসির খোরাক হবেন কি হবেননা সেটা তো ‘choice’-এর ব্যাপার | ঠিক কিনা?? আপনি ফুলটস দেবেন আর আমি ‘ছক্কা’ মারবোনা – এতো কাঁচা খিলাড়ি যে আমি নই সেটা তো ঘোর তৃণমূলীও মানবে আর আপনি তথাকথিত ‘যুবরাজ’ বাংলার ভাবি মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেন – আপনি জানেন না?”

প্রসঙ্গত, আইনজীবী সঞ্জয় বসুর পাঠানো নোটিশে বলা হয়েছে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিদ্বেষপরায়ণ ভাবে তৃণমূল যুব সভাপতির মানহানি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মিথ্যা ট্যুইটে জনগণের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে। যার ফলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামাজিক মর্যাদা, খ্যাতি ও সম্মানের ক্ষতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তাই আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষমা চেয়ে এই ট্যুইট প্রত্যাহার করতে হবে বাবুল সুপ্রিয় কে।

কিন্তু কেন এমন নোটিশ? উল্লেখ্য মহালয়ার দিন সকালে ফেসবুক লাইভে বক্তব্য দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে অভিষেক বলেছিলেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর অমানবিক, অক্লান্ত পরিশ্রমে বাংলার একাধিক প্রকল্প বিশ্ব দরবারে সম্মানিত হচ্ছে।’’  বাবুল সুপ্রিয় বক্তব্যের এই অংশ থেকে অমানবিক শব্দটি তুলে নেন। এবং তা উদ্ধৃত করে ট্যুইটে লেখেন, “মুখ ফসকে সত্যি কথাটা বেরিয়ে গেছে – “অমানবিক মুখ্যমন্ত্রী” আমি একটুও আশ্চর্য নই যে এটা পোস্ট করা ভিডিওতে রয়ে গেছে – কারণ যারা এটা শুট করেছে তারাও ‘অমানবিক মুখ্যমন্ত্রী’ দিদির অমানবিক তৃণমূলী দুষ্কর্মে এতটাই লিপ্ত যে ভুল করে ‘বেরিয়ে’ যাওয়া এই সত্যটি ওরা ধরতেই পারেনি!”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন