নজরবন্দি ব্যুরো: অযোধ্যার নতুন মসজিদ চলবে সৌরশক্তিতে, আগামী ২৬ জানুয়ারি অর্থাৎ প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন অযোধ্যায় একটি মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হবে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে অযোধ্যায় তৈরি হবে ঐতিহাসিক রাম মন্দির। অযোধ্যার বিতর্কিত জমিতেই হবে রাম মন্দির তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। এরই মাঝে শোনা যাচ্ছে আগামী বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের ২৬ জানুয়ারিতে প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন অযোধ্যায় একটি মসজিদের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন হবে। কি না থাকছে সেই মসজিদে।
আরও পড়ুন: তৃণমূলে যোগ দিতেই সুজাতা-কে বিবাহ বিচ্ছেদের নোটিশ সৌমিত্রর!
শোনা যাচ্ছে, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, গ্রন্থাগার এবং কমিউনিটি কিচেন— এই সব সুবিধাকে এক জায়গা নিয়ে তৈরি হতে চলেছে অযোধ্যার বহুচর্চিত মসজিদ। সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে তার ব্লু প্রিন্ট। অযোধ্যা মামলার রায় ২০১৯ সালেই দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এর পর অতিমারির মধ্যেই নতুন সাজে সেজে উঠেছে রাম জন্মভূমি। মহা সমারোহে স্থাপিত হয়েছে রামমন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ওই বিতর্কিত জমিতে রামমন্দির নির্মিত হচ্ছে। পাশাপাশি অযোধ্যারই ধন্নীপুর গ্রামে ৫ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে মসজিদ নির্মাণের জন্য।
আর এই মসজিদ-সহ সম্পূর্ণ কমপ্লেক্সের উপদেষ্টা এবং স্থপতির দায়িত্বে আছেন এস এম আখতার। সংগ্রহশালার কিউরেটরের দায়িত্বে থাকবেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক পুষ্পেশ পন্থ এবং মুম্বইবাসী প্রখ্যাত সমাজসেবী মহম্মদ শোইব। কেমন হবে সেই মসজিদের স্থাপত্য? সেই প্রসঙ্গে এত দিন কোনও কিছু শোনা যায়নি। অবশেষে মৌনতা ভেঙেছে ইন্দো ইসলামিক কালচারাল ফাউন্ডেশন বা আইআইসিএফ। সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড দ্বারা গঠিত এই ফাউন্ডেশন সম্প্রতি মসজিদের নীল নকশা প্রকাশ করেছে। প্রাচীন রীতি ও ঐতিহ্য অনুসারে মসজিদের আকার হবে গোলাকার, বা আরও নির্দিষ্ট করে বললে গম্বুজাকৃতি। তবে আলাদা করে মাথার উপর থাকবে না কোনও গম্বুজ বা ডোম। কিন্তু বাকি ক্ষেত্রে মসজিদ তৈরি হবে অত্যাধুনিক পাশ্চাত্য রীতি মেনেই।
সূত্রের খবর, দোতলা এই ধর্মস্থানে কোনও মিনার থাকবে না। সম্পূর্ণ স্থাপত্য আলোকিত হবে সৌরশক্তিতে। গাড়ি পার্কিং-সহ আধুনিক নাগরিক জীবনের সব সুযোগ সুবিধে সেখানে থাকবে। নির্মাণের পর নতুন মসজিদে একসঙ্গে ২ হাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারবেন। এ ছাড়াও থাকছে ট্রাস্ট অফিস, গবেষণা কেন্দ্র এবং প্রকাশনী সংস্থা। মূল লক্ষ্য থাকবে ইন্দো ইসলামিক সংস্কৃতি ও সাহিত্যের উপর।
অযোধ্যার নতুন মসজিদ চলবে সৌরশক্তিতে, মসজিদ চত্বরেই থাকবে অত্যাধুনিক পরিষেবা-সহ হাসপাতাল। সেখানে চিকিৎসার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন সন্তানসম্ভবা এবং শিশুরা। গুরুত্ব দেওয়া হবে শিশুদের অপুষ্টিজনিত সমস্যা দূরীকরণে। এমনকি অযোধ্যার এই নতুন মসজিদ চলবে শুধুমাত্র সৌরশক্তিতে।



