পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বৃহস্পতিবার রাতে। পরিবারের তরফে লিখিত অভিযোগ জমা পড়তেই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সমগ্র এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভের আবহ তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার সন্ধ্যায়। অভিযোগ, এক বান্ধবীর সঙ্গে গ্রামের দোকানে যাওয়ার পথে নাবালিকাকে জঙ্গলের দিকে টেনে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে ওই ছয়জন যুবক। নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে তাদের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়, তারপরই জোর করে তাকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়। অভিযুক্তরা নাবালিকাকে ভয় দেখায়, যাতে সে কাউকে কিছু না জানায়।
ঘটনার পরে গুরুতর শারীরিক ও মানসিক চাপে অসুস্থ হয়ে পড়ে ওই নাবালিকা। বাড়ি ফিরে লোকলজ্জার ভয়ে প্রথমে কাউকে কিছু জানায়নি। তবে দুই দিন পর স্কুলের এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবীকে ঘটনার সমস্ত কথা খুলে বলে। ওই বান্ধবীই বিষয়টি জানায় এক শিক্ষককে, যিনি দ্রুত নাবালিকার পরিবারকে জানান। এরপরই পরিবার আর সময় নষ্ট না করে আউশগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করে।
আউশগ্রামে নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগে তীব্র চাঞ্চল্য, গ্রেফতার ৬
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া ৬ জনের মধ্যে ৪ জন নাবালক এবং তারা স্থানীয় স্কুলের ছাত্র। ধৃতরা নাবালিকার পরিচিত কি না, কিংবা পুরনো কোনও বিরোধের সূত্র আছে কি না—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ইতিমধ্যেই নির্যাতিতাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে শারীরিক পরীক্ষার জন্য।
পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনার পরে এলাকায় নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন।
আউশগ্রাম থানার এক কর্তা বলেন, তদন্তে কোনও গাফিলতি হবে না। নাবালিকার বক্তব্য, মেডিক্যাল রিপোর্ট ও প্রাথমিক প্রমাণের ভিত্তিতে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। গ্রেফতার ৬ অভিযুক্তকে আদালতে তোলার প্রস্তুতিও চলছে।
এই নৃশংস ঘটনার পরে এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, অপরাধীদের কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য কাজ করার সাহস না পায়। শিশু ও কিশোরীদের নিরাপত্তা নিয়েও উঠছে নানা প্রশ্ন।
পুলিশের বক্তব্য, প্রথম ৪৮ ঘণ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তদন্তকারীরা প্রত্যেক অভিযুক্তের সঙ্গে আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এবং তাদের মোবাইল ফোন, কল রেকর্ড ও সম্ভাব্য অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
নাবালিকাকে গণধর্ষণের অভিযোগ শুধু এক পরিবারের উপর নয়, গোটা এলাকার উপর আঘাত হেনেছে। সমাজের বিভিন্ন মহল থেকে দোষীদের দ্রুত ও কঠোর শাস্তির দাবি উঠছে।







