এশিয়ার সামরিক শক্তির মানচিত্রে ফের বড় নড়চড়। Global Firepower প্রকাশিত ‘Asian Military Strength 2026’ রিপোর্টে ৪৫টি দেশের ফৌজি সক্ষমতার তুলনামূলক চিত্র উঠে এসেছে। সূচকের মান যত শূন্যের কাছাকাছি, শক্তি তত বেশি—এই মাপকাঠিতে ভারতের অবস্থান শীর্ষে, তবে চিন এখনও এগিয়ে। পাকিস্তানের অবনমন স্পষ্ট, আর বাংলাদেশের স্থান তুলনামূলকভাবে নীচে।
সমীক্ষায় ৬০টি ভিন্ন সূচক—প্রতিরক্ষা বাজেট, আধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার, সক্রিয় সেনা সংখ্যা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সক্ষমতা—সব মিলিয়ে এশিয়ার শক্তির তালিকা সাজানো হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, Russia এশিয়ায় প্রথম (পাওয়ার ইনডেক্স ০.০৭৯১)। পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার ও সাম্প্রতিক যুদ্ধঅভিজ্ঞতা মস্কোর স্কোরকে শক্ত করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

শীর্ষে কারা?
-
১. রাশিয়া – ০.০৭৯১
-
২. China – ০.০৯১৯ (গত বছরের তুলনায় সামান্য পিছিয়েছে)
-
৩. India – ০.১৩৪৬
চিনের ক্ষেত্রে পিএলএ-র অভ্যন্তরীণ টানাপড়েন ও শীর্ষস্তরের বিতর্ক স্কোরে প্রভাব ফেলেছে বলে মত। তবু আধুনিকীকরণ ও বাজেটের জোরে বেজিং দ্বিতীয় স্থান ধরে রেখেছে।
ভারতের অবস্থান কেন শক্ত?
ভারতের স্থলবাহিনীতে ২১.৪৮ লক্ষ, নৌবাহিনীতে ১.৪৮ লক্ষ এবং বিমানবাহিনীতে ২.৮৯ লক্ষ সদস্য—এই মানবসম্পদ বড় শক্তি। ২০২৬–’২৭ অর্থবর্ষে প্রতিরক্ষা বরাদ্দ ৭.৮৫ লক্ষ কোটি টাকা (প্রায় ১৫.৩% বৃদ্ধি) এবং আধুনিকীকরণে ২.১৯ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ স্কোরকে সমর্থন জুগিয়েছে। ডিআরডিও-র হাইপারসনিক পরীক্ষা, ড্রোন সক্ষমতা বৃদ্ধি, নৌবাহিনীর রণতরী–ডুবোজাহাজ সংযোজন—সব মিলিয়ে ভারতের তৃতীয় স্থান পাকা।
পাকিস্তান কোথায়?
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১৪ হলেও এশিয়ায় Pakistan অষ্টম (০.২৬২৬)। ২০২৪ থেকে ধারাবাহিক অবনমন চলছে—সম্প্রতি সংঘাত, অবকাঠামোগত ক্ষতি ও বাজেটচাপকে কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।
মাঝের সারিতে কারা?
-
৪. দক্ষিণ কোরিয়া, ৫. জাপান, ৬. তুরস্ক
-
৭. ইন্দোনেশিয়া (রাফাল জেট চুক্তি ও আধুনিকীকরণে জোর)
-
৯. ইজ়রায়েল, ১০. ইরান (উভয়ের অবস্থান প্রায় অপরিবর্তিত)
প্রতিবেশীদের অবস্থান
ভারতের আশপাশে চিত্র বেশ অসম। Bangladesh এশিয়ায় ১৮ নম্বরে। মায়ানমার ১৭, শ্রীলঙ্কা ২৬, আফগানিস্তান ৪২, নেপাল ৪৩ এবং ভুটান ৪৫—এই দেশগুলির সামরিক সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে সীমিত।
সারকথা: ২০২৬-এর এশীয় তালিকায় শীর্ষ তিনে রাশিয়া–চিন–ভারত। ভারতের অবস্থান মজবুত হলেও বাজেটের তুলনা ও গবেষণা ব্যয়ের ব্যবধান কমানোই পরবর্তী চ্যালেঞ্জ। পাকিস্তানের অবনমন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের আধুনিকীকরণ আগামী বছরে তালিকায় আরও পরিবর্তন আনতে পারে।







