ম্যাচের শুরুতে টসে জিতে বাংলাদেশকে ব্যাট করতে পাঠান ভারতের অধিনায়ক জিতেশ শর্মা। শুরুতেই মনে হচ্ছিল সিদ্ধান্ত ভুল। কারণ ওপেনাররা ভারতীয় পেস আক্রমণকে সহজেই মোকাবিলা করছিল। পাঁচ ওভারের মধ্যেই রানে বন্যা বইয়ে দেন জিশান ও হাবিবুর।
তবে ভারতের স্পিনাররা ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন। রমনদীপের বলেই ফেরেন জ়াওয়াদ আবরার। তবুও উইকেট ধরে রেখে আক্রমণ চালিয়ে যান হাবিবুর রহমান। তিনটি চার ও পাঁচটি ছয়ের সাহায্যে ৪৬ বলে ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন তিনি।
কিন্তু প্রকৃত নাটক শুরু হয় শেষ দুই ওভারে। তখন বাংলাদেশের স্কোর ১৮ ওভারে ১৪৪/৬। পরের দুই ওভারে তোলা হয় অবিশ্বাস্য ৫০ রান।
এসএম মেহেরোব সেই তাণ্ডবের নায়ক। ১৮ বলে ৪৮ রান করা মেহেরোব ১৯তম ওভারে একাই নেন ২৮ রান। চারটি ছয় ও একটি চারে নমন ধীরকে নাজেহাল করে দেন তিনি। শেষ ওভারেও বিশাখকে দু’টি ছয় ও দু’টি চার মারেন।
এশিয়া কাপে বাংলাদেশের কাছে নাটকীয় হারে ভারতের বিদায়
১৯৫ রান তাড়া করতে নেমে ভারত দুর্দান্ত সূচনা করলেও মাঝপথে থমকে যায় গতি। ওপেনিংয়ে বৈভব সূর্যবংশী শুরুতেই রিপন ও মেহেরবকে পরপর ছয় মারেন। মাত্র চার ওভারের মধ্যেই ৩৮ রান করে ফর্মের পরিচয় দেন তিনি। এশিয়া কাপ জুড়ে দারুণ ফর্মে থাকা এই ব্যাটারকে ঘিরে ছিল দলের বড় আশা।
কিন্তু চতুর্থ ওভারেই সাকলাইনের বলে ফিরে যান বৈভব। অন্যদিকে প্রিয়াংশ আর্য ছক্কার বন্যা বইয়ে খেললেও নমন ধীর দীর্ঘ সময় স্ট্রাইক আটকে রাখেন। মাত্র ১২ বলে সাত রান করার পর আউট হয়ে দলকে চাপে ফেলে যান তিনি। পরে জিতেশ ও নেহালের ধীর ব্যাটিংয়েও রান তোলার গতি কমে যায়।
শেষ দু’ওভারে দরকার ছিল ২১ রান। রিপন মণ্ডল সেই ওভারে মাত্র পাঁচ রান দিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে ভারতকে চাপে ফেলে দেন। শেষ ওভারে সমীকরণ ১৬ রান। আশুতোষ শর্মার ছয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও পরের বলেই তুলে দেন সহজ ক্যাচ। মাঠে থাকা জিশান সেই ক্যাচ ফেলে দিলে বল চার হয়ে যায়। কিন্তু তাতেও ম্যাচ বাঁচেনি ভারতের।
সবচেয়ে বড় বিতর্ক সুপার ওভার নিয়ে। বৈভব সূর্যবংশীর আগ্রাসী ব্যাটিং ফর্ম থাকা সত্ত্বেও তাঁকে না পাঠানোর সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ ক্রিকেটভক্তরা।
যে ব্যাটার মাত্র আগের দিনই ওপেন করে ম্যাচ জেতানোর মতো ইনিংস খেলেছিলেন, তাঁকে উপেক্ষা করায় উঠছে প্রশ্ন—টিম ম্যানেজমেন্ট কি ভুল সিদ্ধান্ত নিল? এশিয়া কাপ বাংলাদেশের কাছে ভারতের হার তাই শুধু ম্যাচ হার নয়; বিতর্ক, প্রশ্ন আর ব্যর্থ কৌশলের এক চিত্র তুলে ধরল।







