জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর নিজের অর্পিতা সম্পর্ক প্রকাশ্যে স্বীকার করে রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের ঢেউ তুলেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। আর এই মন্তব্যের জেরে এবার তীব্র ক্ষোভ উগরে দিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখীর সঙ্গে অর্পিতার তুলনা টেনে পার্থ যে কটাক্ষ ছুড়েছিলেন, সেই আক্রমণই কয়েক গুণ তীব্রভাবে ফিরিয়ে দিয়েছেন বৈশাখী। তাঁর বক্তব্য, পার্থর আচরণে ‘সততা’ নয়, দেখা যাচ্ছে দ্বিচারিতা।
জেল থেকে বেরোনোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পার্থ সংবাদমাধ্যমে বলেন, “লোকের দু’টো বউ থাকতে পারে, আমার বান্ধবী থাকতে পারে না?” শোভন-বৈশাখীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও যোগ করেন, “আপনারা যদি শোভন-বৈশাখীকে দেখাতে পারেন, তাহলে আমাকেও দেখাতে পারবেন।” এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক অন্দরে জোর চর্চা শুরু হয়। অনেকেই ইঙ্গিত করেন, পার্থর নিশানায় ছিলেন কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়।
মানুষ নন, তবে এতদিনে পুরুষ হতে পেরেছেন, অর্পিতার সঙ্গে তুলনায় পার্থকে কড়া জবাব বৈশাখীর
পার্থ স্পষ্ট করে বলেন, অর্পিতা তাঁর ‘বান্ধবী’, এবং এতে কারও আপত্তির কারণ নেই। অথচ তিন বছর ধরে চলা তদন্তকালে তিনি দাবি করেছিলেন, অর্পিতাকে সেভাবে চিনতেনই না। সেই দ্বৈত বক্তব্য নিয়েই উঠছে নানা প্রশ্ন। আর এই বদলকে প্রহসন বলেই মনে করছেন বৈশাখী।
এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বৈশাখী কড়া ভাষায় বলেন, “শোভন তার বান্ধবীর জন্য দলের পদ ছেড়েছিল। আর উনি? বান্ধবীর বাড়িতে টাকা জমিয়ে ছিলেন।” তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত—শোভন যা করেছেন প্রকাশ্যেই করেছেন, কিন্তু পার্থের আচরণ গোপনীয় এবং অস্পষ্ট ছিল। বৈশাখীর আরও কটাক্ষ, “পার্থ ভালো মানুষ হতে পারেননি। তবে এতদিনে যে পুরুষ হতে পেরেছেন তার জন্য সাধুবাদ।”

প্রাক্তন অধ্যাপিকা বৈশাখীর কথায়, যখন পার্থ এলআইসি ফর্মে ‘আঙ্কেল’ পরিচয় দিতেন, তখন অর্পিতাকে প্রেমিকা বলে দাবি করতে তাঁর আপত্তি ছিল। অথচ এখন, জেল থেকে বেরিয়েই অর্পিতাকে বান্ধবী বলে পরিচয় দিচ্ছেন। তিনি বলেন, “আগে স্ত্রী ছিল বলে ভাগ্নী পরিচয় দিতেন, এখন স্ত্রী নেই বলে বান্ধবী।” তাঁর বক্তব্যে বিরোধী শিবিরে হাস্যরস আর তৃণমূল মহলে অস্বস্তি—দুই-ই বাড়ছে।
গত সাড়ে তিন বছরে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের সম্পর্ক নিয়ে তোলপাড় হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। অর্পিতার ফ্ল্যাট থেকে কোটি টাকা উদ্ধার হওয়ার পর তদন্ত শুরু হয়, তারপর থেকেই নানা প্রশ্ন, জল্পনা, কটাক্ষ চলেছে। তদন্ত চলাকালীন একাধিকবার পার্থ বলেছেন, অর্পিতাকে তিনি ‘চেনেন না’। কিন্তু আদালতের নির্দেশে মুক্তির পর আচমকাই পাল্টে যায় তাঁর বক্তব্য। তিনি জানান, অর্পিতা তাঁর ঘনিষ্ঠ, এবং সম্পর্ক নিয়ে তিনি লজ্জিত নন।

এই অবস্থার প্রেক্ষিতে বৈশাখীর প্রতিক্রিয়া আরও আক্রমণাত্মক হয়েছে। তিনি বলেন, “উনি মানুষ না হলেও পুরুষ হয়েছেন—তার জন্য সংগ্রামী অভিনন্দন।” রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্য আরও তর্ক-বিতর্ক বাড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্থর এই নতুন স্বীকারোক্তি আসলে তদন্ত-পরবর্তী ছাপ মুছতে বা জনমতের সামনে নিজেকে ‘সৎ’ প্রমাণের চেষ্টা। কিন্তু বৈশাখীর পালটা মন্তব্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি ‘ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন’ নয়, বরং দলগত, ব্যক্তিগত ও নৈতিক অবস্থানের সংঘর্ষ বলেই অনেকে মনে করছেন। এখন দেখার, এই মন্তব্যবিনিময়ের পর তৃণমূল কংগ্রেস কী অবস্থান নেয়, এবং বিষয়টি রাজনৈতিক অক্ষে কী প্রভাব ফেলে।



