মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটি পোস্টেই যেন থমকে গেল বলিউডের সংগীতজগৎ। নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে আচমকাই ঘোষণা—আর কোনও ছবিতে প্লেব্যাক করবেন না অরিজিৎ সিং। আসমুদ্রহিমাচলের কোটি কোটি শ্রোতার হৃদয়ে ঝড় তুলে দেওয়া এই সিদ্ধান্তের পর থেকেই প্রশ্ন একটাই—কেন এখন? কেন ক্যারিয়ারের শিখরে দাঁড়িয়ে এমন ঘোষণা দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় কণ্ঠের?
সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া বার্তায় অরিজিৎ সিং লেখেন,
“নতুন বছরের শুভেচ্ছা সকলকে। শ্রোতা হিসাবে এত বছর ধরে আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, তার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। তবে আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি, এ বার থেকে আমি আর প্লেব্যাক গায়ক হিসেবে কোনও কাজ করব না।”
পোস্টের শেষ লাইনে তিনি যোগ করেন, “এই সফর সত্যিই সুন্দর ছিল।”


এই ঘোষণায় কার্যত স্তব্ধ তাঁর অনুরাগীরা। যদিও কেন এমন সিদ্ধান্ত, তা স্পষ্ট করেননি গায়ক। কোনও কোনও মহলের ধারণা, কণ্ঠের বিশ্রামের জন্যই হয়তো সাময়িক বিরতি নিচ্ছেন তিনি। তবে নিজের বক্তব্যে অরিজিৎ সে ইঙ্গিত দেননি। বরং তিনি পরিষ্কার করে জানান, গান তৈরি করা তিনি বন্ধ করছেন না।
অরিজিতের কথায়,
“আমি ভালো সঙ্গীতের ভক্ত। ভবিষ্যতে একজন শিল্পী হিসেবে আরও শেখা ও স্বাধীনভাবে কিছু করার দিকেই মন দেব। কিছু প্রতিশ্রুতি এখনও বাকি আছে, সেগুলো পূরণ করব। তাই এ বছর হয়তো আমার আরও কিছু কাজ মুক্তি পেতে পারে।”
প্লেব্যাক থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণার পর মন ভেঙেছে তাঁর তামাম ভক্তকুলের। তবে এই আবেগঘন মুহূর্তেই কৌতূহল বেড়েছে অরিজিতের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও উপার্জন ঘিরে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত অরিজিত সিংয়ের মোট সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৪১৪ কোটি টাকা।
গায়কের সম্পত্তির তালিকায় রয়েছে নভি মুম্বইয়ে প্রায় ৮ কোটি টাকার একটি বিলাসবহুল বাড়ি, পাশাপাশি ৩.৪ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক গাড়ি। তাঁর গ্যারাজে রয়েছে রেঞ্জ রোভার, হামার এইচ৩, মার্সিডিজ়-সহ একাধিক দামি গাড়ি। আবার অন্যদিকে, নিজের শহর জিয়াগঞ্জে সেই পরিচিত স্কুটিতেই সাধারণ মানুষের মতো ঘুরে বেড়ান অরিজিৎ—যে স্কুটিতে বসিয়েই একসময় এড শিরানকেও ঘুরিয়েছিলেন তিনি।


মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে অরিজিতের পরিবারের ‘হেঁশেল’ নামে একটি পকেটবান্ধব রেস্তরাঁও রয়েছে। আজও সেখানে সাধারণ মানুষের জন্য ৪০ টাকায় খাবার পাওয়া যায়—যা গায়কের মাটির কাছাকাছি থাকার মানসিকতাকেই তুলে ধরে।
আয়ের অঙ্কেও অরিজিৎ দেশের সেরাদের অন্যতম। সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর আনুমানিক বার্ষিক আয় প্রায় ৭০ কোটি টাকা। বলিউডে একটি গান গাওয়ার জন্য নেন প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। লাইভ শোয়ের ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক ৫০ লক্ষ থেকে শুরু করে ১.৫–২ কোটি টাকা পর্যন্ত। বিদেশে বড় কনসার্ট হলে এই অঙ্ক আরও অনেক বেশি হয়।
২০০৫ সালে ‘ফেম গুরুকুল’-এর মঞ্চ থেকে যাত্রা শুরু। ২০১১ সালে ‘মার্ডার ২’-এর গান দিয়ে বলিউডে আত্মপ্রকাশ। আর ২০১৩ সালে ‘আশিকি ২’-এর ‘তুম হি হো’—এই এক গানেই বদলে যায় সব। তার পর থেকে হিন্দি, বাংলা, তেলুগু, মরাঠি-সহ একাধিক ভাষায় ৩০০-র বেশি গান। জাতীয় পুরস্কার থেকে শুরু করে ২০২৫ সালের পদ্মশ্রী—সম্মানে ভরেছে ঝুলি। স্পটিফাই টানা সাত বছর তাঁকে ‘ভারতের শীর্ষ শিল্পী’ হিসেবে বেছে নিয়েছে।
অরিজিতের ঘোষণার পর সঙ্গীতজগতেও প্রতিক্রিয়ার ঢেউ। সুরকার অমল মালিক সিদ্ধান্তে হতাশ হলেও সম্মান জানিয়েছেন। র্যাপার বাদশা তাঁকে এই প্রজন্মের সেরা শিল্পী বলে আখ্যা দিয়েছেন।
প্লেব্যাক থেকে সরে গেলেও অরিজিতের সঙ্গীতযাত্রা যে থামছে না—সে কথা গায়ক নিজেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন। এখন শুধু অপেক্ষা, তাঁর এই নতুন অধ্যায় কোন সুরে লেখা হয়।







