আর্জেন্টিনা বনাম মিশর ম্যাচ ঘিরে রেফারিং বিতর্ক এবার পৌঁছে গেল ফিফার দোরগোড়ায়। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও ৩-২ গোলে হারার পর ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে এবং তাঁর রেফারিং দলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ফিফা তদন্ত শুরু করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।
মিশর ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হানি আবো রিদা অভিযোগপত্রে দাবি করেছেন, ম্যাচে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মিশরের বিরুদ্ধে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সিদ্ধান্তগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে ও তাঁর রেফারিং দলকে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলির দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার আবেদনও জানানো হয়েছে।
সূত্রের খবর, অভিযোগ পাওয়ার পর রেফারির পারফরম্যান্স খতিয়ে দেখতে পারে ফিফার রেফারিং বিভাগ। শুধু আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচ নয়, চলতি বিশ্বকাপে তাঁর পরিচালিত অন্যান্য ম্যাচের সিদ্ধান্তও পর্যালোচনা করা হতে পারে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা যাচ্ছে।
তবে অতীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে রেফারিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও, শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে বিশ্বকাপ চলাকালীন কোনও রেফারিকে নির্বাসিত করার নজির খুবই বিরল। ফলে তদন্ত শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নির্ভর করবে ফিফার অভ্যন্তরীণ রিপোর্টের উপর।
ম্যাচ শেষে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, দল অন্যায়ের শিকার হয়েছে এবং ম্যাচ পরিচালনায় গুরুতর ভুল হয়েছে। তাঁর দাবি, আর্জেন্টিনার জয়সূচক তৃতীয় গোলের আগে মিশরের প্রাপ্য একটি স্পষ্ট পেনাল্টি দেওয়া হয়নি, যা ম্যাচের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলেছে।
এখন নজর ফিফার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তদন্ত শুরু হলে রেফারিং সংক্রান্ত সমস্ত ভিডিও ফুটেজ ও ম্যাচ রিপোর্ট বিশ্লেষণ করা হতে পারে। সেই রিপোর্টের উপরই নির্ভর করবে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া লেতেক্সিয়ে চলতি বিশ্বকাপে আর ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পাবেন কি না।






