বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী অনুরাধা পাড়োয়াল এবার সঙ্গীত নয়, বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে শিরোনামে। সম্প্রতি সাংবাদিক শুভঙ্কর মিশ্রের ইউটিউব পডকাস্টে অংশ নিয়ে বিবাহ প্রতিষ্ঠান, পারিবারিক কাঠামো এবং LGBTQ+ সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়ে নিজের মত প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। বহু নেটিজেন তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ কেউ মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গও তুলেছেন।
পডকাস্টে অনুরাধা পাড়োয়াল বলেন, বর্তমান সময়ে বিবাহ প্রতিষ্ঠানের আগের মতো “পবিত্রতা” আর নেই বলে তাঁর মনে হয়। তাঁর দাবি, LGBTQ+ সম্প্রদায়ের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর সমাজে বিবাহের প্রচলিত ধারণায় পরিবর্তন এসেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “সমাজ গঠনে তাঁদের অবদান কোথায়? আমি জানতে চাই, সমকামী সম্পর্ক সমাজের কী ভালো করছে?”
নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, তাঁর মতে প্রচলিত পারিবারিক কাঠামো— যেখানে একজন পুরুষ ও একজন নারী বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পরিবার গড়ে তোলেন— সেটিই সমাজের স্বাভাবিক কাঠামো। সমকামী সম্পর্কের সামাজিক ভূমিকা নিয়ে তাঁর সংশয় রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি জানান, হয়তো তাঁর বোঝার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, তবু এই প্রশ্ন তাঁর মনে রয়েছে।
শুধু LGBTQ+ প্রসঙ্গ নয়, আধুনিক সমাজে বাড়তে থাকা বিবাহবিচ্ছেদ এবং তার প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন অনুরাধা পাড়োয়াল। তাঁর বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে চলা বিবাহবিচ্ছেদের মামলার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে সন্তানদের উপর। তিনি বলেন, শিশুদের মানসিক বিকাশে পারিবারিক পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সমাজে এই বিষয়গুলিও সমান গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।
তবে তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বহু ব্যবহারকারী দাবি করেন, LGBTQ+ ব্যক্তিদের অবদান তাঁদের যৌন অভিমুখিতা দিয়ে বিচার করা যায় না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁরা অন্য নাগরিকদের মতোই কাজ করে সমাজে অবদান রেখে চলেছেন। অনেকেই অনুরাধা পাড়োয়ালের মন্তব্যকে অসংবেদনশীল ও তথ্যভিত্তিক নয় বলে সমালোচনা করেছেন।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অনুরাধা পাড়োয়াল বিতর্ক ঘিরে নতুন করে কোনও ব্যাখ্যা বা প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে তাঁর মন্তব্যকে ঘিরে সমানাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং LGBTQ+ সম্প্রদায়ের সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।