২০২২ সালে গরু পাচার মামলায় তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল গ্রেফতারের পরই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে বলেছিলেন, “ও একদিন বেরিয়ে আসবে। ওকে বীরের সম্মান দিয়ে ফিরিয়ে আনব।” মঙ্গলবার কার্যত সেই দৃশ্যের সাক্ষী থাকলো বীরভূম। বীরের সম্মান দিয়ে অনুব্রতকে বরণ করে নিলেন তৃণমূল কর্মীরা। স্লোগান, পুষ্পবৃষ্টির মাধ্যমে তাঁকে বোলপুরের নিচুপট্টির বাড়িতে স্বাগত জানানো হল। আর কার্যত নিজের গড়ে ফিরে এক রাতের মধ্যে এলাকার দখল নিলেন কেষ্ট! কিন্তু এরপরে যে কাজ করলেন অনুব্রত অনুগামীরা তাতে দলের মধ্যেই তৈরি হল দ্বন্দ্ব।
বুধবার বোলপুর তৃণমূল কার্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হল কোর কমিটির নেতাদের ছবি। জেলার নেতাদের সরিয়ে শুধু কেষ্টর ছবি ঠাঁই পেল কার্যালয়ের দেওয়ালে। যা নিয়ে তৃণমূলের জেলা কোর কমিটির সদস্য তথা জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ ব্যাপক ক্ষুব্ধ। তিনি সাফ জানিয়েছেন, ছবি সরানোর কাজটি মোটেই ঠিক হয়নি। কাজল বলেন, “মনে রাখতে হবে ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বীরভূমের দু’টি আসন জিতিয়েছে কোর কমিটি-ই। আমরা দেখিয়ে দিয়েছি। তাই কোর কমিটির সদস্যদের ছবি সরিয়ে দেওয়াটা ঠিক হয়নি।”
বুধবার সকাল থেকে বোলপুর তৃণমূল কার্যালয়ের দরজা, গ্রিলে রং শুরু হয়। অনুব্রতকে অভিবাদন জানাতে সেজে ওঠে দলীয় অফিস। একে একে অভিজিৎ সিংহ, চন্দ্রনাথ সিংহ, বিকাশ রায়চৌধুরী, সুদীপ্ত ঘোষ, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়। তার পর কেষ্টর ৯টি ছবি কার্যালয়ের ভিতরে টাঙানো হয়েছে বলে তৃণমূলেরই সূত্রে খবর। গেটের সামনেও রয়েছে অনুব্রতের বড় কাটআউট। তা নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
দীর্ঘ দু’বছর পর বাড়ি ফিরে মঙ্গলবার কার্যত আবেগে ভেসে যান অনুব্রত। সর্বক্ষণ তাঁর পাশে ছিলেন মেয়ে সুকন্যা মন্ডল। অনুব্রত নিজে কেঁদে দেন, কাঁদান তৃণমূল কর্মীদের। একবার দরজার বাইরে হাত নাড়েন। ওই অব্দিই। তবে সবথেকে উল্লেখযোগ্য বিষয়টা হল, একেবারে বেছে বেছে কয়েকজন নেতার সঙ্গে দেখা করলেন তিনি। অনেককে ফিরে যেতে হল দরজা থেকেই। ঘটনাচক্রে অনুব্রত মণ্ডলের বাড়ি থেকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরে গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহে মমতা বন্দোপাধ্যায় প্রশাসনিক বৈঠক করলেও কেষ্টর সঙ্গে দেখা করলেন না। হয়তো তাঁদের মধ্যে ফোনে কথা হয়ে থাকতে পারে।



