অন্নপূর্ণা যোজনা-র সুবিধা স্বচ্ছভাবে প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে পৌঁছে দিতে বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। শুক্রবার মুর্শিদাবাদ সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সরকারি প্রকল্পে ভুয়ো সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করতে জোরকদমে চলছে যাচাই প্রক্রিয়া। নথি পরীক্ষায় অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন তিনি।
বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, সংখ্যালঘু স্কলারশিপ-সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। যাচাইয়ের সময় ইতিমধ্যেই শতাধিক ভুয়ো উপভোক্তার তথ্য সামনে এসেছে বলে তাঁর দাবি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, বিভিন্ন প্রকল্পের আবেদনকারীদের নথি খতিয়ে দেখতে গিয়ে আধার সংযুক্তি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং কেওয়াইসি সংক্রান্ত একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ছে। তাঁর কথায়, “যাচাইয়ের সময় অন্তত ৬০০টি ভুয়ো সুবিধাভোগীর তথ্য সামনে এসেছে। সব নথি ভালোভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। যারা ভুয়ো বলে প্রমাণিত হবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মুর্শিদাবাদ সফরে সংক্ষিপ্ত প্রশাসনিক বৈঠকের পরও একই বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, অতীতে সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে টেন্ডার প্রক্রিয়া—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দুর্নীতি হয়েছে। ফলে প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে সরকারি সুবিধা পৌঁছেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা এখন প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার।
এদিন অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আপডেট দেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, ১ জুলাই থেকে প্রায় ১২ লক্ষ মহিলা প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে এই সংখ্যা প্রায় ১৫ লক্ষে পৌঁছাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারকে আরও দু’মাস সময় দেওয়া হলে সমস্ত আবেদনপত্র এবং নথি বিস্তারিতভাবে যাচাই করে প্রকৃত উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো হবে। তাঁর দাবি, স্বচ্ছতা বজায় রেখেই প্রকল্প পরিচালনা করাই সরকারের লক্ষ্য।
সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম রোধ এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার প্রশ্নে সরকারের এই কঠোর অবস্থান আগামী দিনে আরও জোরদার হতে পারে বলেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে।



