অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে আবেদন ঘিরে সাধারণ মানুষের সুবিধার কথা মাথায় রেখে বড় উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। আগামী ১৫, ১৬ এবং ১৭ জুন রাজ্যের প্রতিটি জেলায় আয়োজিত হতে চলেছে ‘জনকল্যাণ শিবির’। সেখানে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম ফিল-আপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা মিলবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
অন্নপূর্ণা যোজনার ১২ পাতার আবেদনপত্র প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মধ্যে একাধিক প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, আবেদনকারীদের পাশে দাঁড়াতেই এই বিশেষ শিবিরের আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, এই জনকল্যাণ শিবিরে শুধু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নয়, বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প সম্পর্কেও সচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে। কীভাবে আবেদন করতে হবে, কারা সুবিধা পাবেন, কোথায় যোগাযোগ করতে হবে— এমন নানা বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হবে সাধারণ মানুষকে।
বিশেষ করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ফর্ম পূরণে যাঁদের সমস্যা হচ্ছে, তাঁদের জন্য থাকবে আলাদা সহায়তা ব্যবস্থা। অনলাইন ও অফলাইন— দুই পদ্ধতিতেই আবেদন করা যাবে। কেউ যদি নিজে অনলাইনে আবেদন করতে না পারেন, সেক্ষেত্রে শিবিরে উপস্থিত কর্মীরা সরাসরি ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, আপাতত ১ জুন থেকে পরবর্তী ৯০ দিন ধরে আবেদন প্রক্রিয়া চালানো হবে। বিডিও অফিস, পুরসভা এবং বড় শহরগুলিতে ওয়ার্ডভিত্তিকভাবে এই কাজ চলবে। গ্রামীণ এলাকায় পঞ্চায়েত স্তরে বাড়ি বাড়ি গিয়েও আবেদন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা হবে।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “যাঁরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন না, তাঁদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। বিডিও অফিসের পাশাপাশি বিধায়কদেরও ফর্ম ফিল-আপে সহায়তার দায়িত্ব দেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান, ১৫, ১৬ ও ১৭ জুনের জনকল্যাণ শিবিরে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আবেদন নিয়ে যে কোনও বিভ্রান্তি বা সমস্যার সমাধান করা হবে। ফলে সাধারণ মানুষ সরাসরি সরকারি কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা পেতে পারবেন।
সব মিলিয়ে, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতেই এই জনকল্যাণ শিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।



