আগস্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা পাবেন কারা? কপাল খুলবে এই ১ লক্ষ মহিলার! লেটেস্ট আপডেট

আগস্টের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার কিস্তির আগে উপভোক্তাদের নথি ও তথ্য যাচাই করছে প্রশাসন। একই সঙ্গে NCPI সাংসদদের এলাকায় অতিরিক্ত সুবিধা নিয়ে নতুন দাবি ঘিরে জোর আলোচনা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরো: জুলাই মাসে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়ার পর এবার আগস্টের অনুদান নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। একদিকে প্রশাসনের কড়া ভেরিফিকেশনের জেরে বহু আবেদনকারীর স্ট্যাটাস ‘আন্ডার এনকোয়ারি’ দেখাচ্ছে, অন্যদিকে দিল্লিতে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র সঙ্গে NCPI সাংসদদের বৈঠকের পর ওই দলের সাংসদদের এলাকায় অতিরিক্ত ৫,০০০ মহিলাকে প্রকল্পের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এ দিন, NCPI সাংসদদের সঙ্গে বৈঠকের সময় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ, প্রত্যেক সাংসদ (NCPI) পিছু ৫০০০ করে অন্নপূর্ণা যোজনার সুযোগ দেওয়া হবে।

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা দেওয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। অনেক উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে যেমন টাকা ঢুকেছে, তেমনই অনেকের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকেনি। সেই রকমই প্রত্যেক সাংসদ (NCPI) পিছু ৫০০০ করে অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের সুযোগ দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। অর্থাৎ, এই কুড়িজন যে যে এলাকার সাংসদ, সেই সংসদীয় কেন্দ্রে যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি, তেমনই ৫০০০ জন পাবেন টাকা। অর্থা ২০ জন NCPI সাংসদের এলাকায় মোট ১ লক্ষ মহিলা সুযোগ পাবেন।

জানা গিয়েছে, জুলাই মাসে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের আওতায় এক কোটিরও বেশি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুদানের টাকা পৌঁছে যায়। কিন্তু একই সময়ে বহু যোগ্য আবেদনকারী টাকা না পাওয়ার অভিযোগ করেন। পাশাপাশি অভিযোগ ওঠে, কিছু অযোগ্য ব্যক্তিও প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন।

বঙ্গভবনে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। ছবি: সংগৃহীত।
বঙ্গভবনে এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। ছবি: সংগৃহীত।

এই পরিস্থিতিতে প্রশাসন উপভোক্তাদের তথ্য ও নথি নতুন করে যাচাই শুরু করেছে। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, প্রথম দফায় দ্রুত টাকা পাঠানোর কারণে কিছু আবেদন যথাযথভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সেই কারণেই বর্তমানে আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্য, নথি এবং যোগ্যতার শর্ত পুনরায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

একাধিক আবেদনকারীর স্ট্যাটাস ইতিমধ্যেই ‘Under Enquiry’ দেখাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ভেরিফিকেশনের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা প্রয়োজনে আবেদনকারীদের বাড়িতেও যাচ্ছেন। আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতি মিলিয়ে দেখা হচ্ছে এবং কোনও অসঙ্গতি ধরা পড়লে তা নথিভুক্ত করা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, যাঁরা আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দিয়েছেন, আয় বা সম্পত্তি সংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছেন অথবা প্রয়োজনীয় নথিতে অসঙ্গতি রয়েছে, তাঁদের নাম উপভোক্তার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও এ বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।

অন্যদিকে, দিল্লিতে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র সঙ্গে NCPI সাংসদদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যে সব এলাকায় NCPI সাংসদ রয়েছেন সেখানে অতিরিক্ত ৫,০০০ জন মহিলা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। এই তথ্য বিভিন্ন মহলে প্রচারিত হলেও, এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা প্রকাশিত হয়নি।

প্রশাসনের বক্তব্য, যাঁরা প্রকৃত যোগ্য অথচ এখনও টাকা পাননি, তাঁদের নথিও একইভাবে যাচাই করা হচ্ছে। ভেরিফিকেশন সম্পূর্ণ হলে ধাপে ধাপে প্রকৃত উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অনুদানের টাকা পাঠানো হবে, যাতে কোনও যোগ্য আবেদনকারী বঞ্চিত না হন। তাই আগস্টের কিস্তির আগে আবেদনকারীদের সঠিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি হালনাগাদ রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন