পাঁচ দিন পেরিয়েও আনন্দপুরের আগুনের ক্ষত শুকোয়নি। ধ্বংসস্তূপ, দেহাংশ উদ্ধারের খবর আর নিখোঁজ পরিবারের আর্তনাদ—সব মিলিয়ে আতঙ্কের আবহেই ঘটনাস্থলে পৌঁছলেন রাজ্যপাল। প্রশাসনিক গাফিলতির প্রশ্ন তুলে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস জানালেন, এই মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত, যদি আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হত।
কলকাতার উপকণ্ঠ আনন্দপুরে মোমো কারখানা ও সংলগ্ন গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পাঁচ দিন পর শুক্রবার বেলা নাগাদ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাজ্যপাল। তার আগে উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুরে মহাত্মা গান্ধীর মৃত্যুদিন উপলক্ষে গান্ধীঘাটে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে রাজ্যপাল বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। তদন্তে এর প্রকৃত কারণ সামনে আসবে। তবে আরও সতর্ক থাকা উচিত ছিল।”
আনন্দপুরের ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বহু আগেই। গভীর রাতে কারখানা ও গোডাউনের ভিতরে বহু শ্রমিক থাকার তথ্য সামনে আসার পরই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৫টি দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তদন্তে নেমে পুলিশ একের পর এক গ্রেপ্তারি চালাচ্ছে। প্রথমে ডেকরেটর সংস্থার মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে বুধবার তাঁকে বারুইপুর আদালতে পেশ করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এবার মোমো কারখানার দুই আধিকারিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংস্থার ম্যানেজার মনোরঞ্জন শিট ও ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তীকে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ বুধবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গিয়েছে।
রাজ্যপাল এদিন দুপুরের পর আনন্দপুরে পৌঁছে পুড়ে যাওয়া কারখানা ও গোডাউন এলাকা ঘুরে দেখেন। ধ্বংসস্তূপ, উদ্ধারকাজের অগ্রগতি এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন তিনি। যদিও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
রাজ্যপালের এই সফর ও মন্তব্য প্রশাসনের উপর চাপ বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তদন্তের ফলাফল এবং দায় নির্ধারণের দিকেই এখন নজর রাজ্যবাসীর।



