অমিত শাহ মমতাকে উদ্দেশ্য করেই মন্তব্য করলেন—অনুপ্রবেশকারীদের সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে। বাংলার ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন স্থগিত রাখতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিঠির জেরে শুক্রবার নতুন করে উত্তাল হয়ে উঠল রাজনৈতিক অঙ্গন। নাম না করেও সরাসরি আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
স্বরাষ্ট্র দফতরের তরফে এদিন সমাজমাধ্যমে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়, যেখানে স্পষ্ট উল্লেখ—বার্তাটি স্বয়ং অমিত শাহের দেওয়া। তাঁর অভিযোগ, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক কাঠামো রক্ষার স্বার্থে অনুপ্রবেশ রুখে দেওয়া জরুরি, কিন্তু দেশের কিছু রাজনৈতিক দল নাকি এই প্রক্রিয়াতেই বাধা দিচ্ছে। শাহের দাবি, অনুপ্রবেশকারীদের ‘সুরক্ষা প্রদান’ করা হচ্ছে, আর সেই কারণেই তারা নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণের উদ্যোগের বিরোধিতা করছে।
‘অনুপ্রবেশকারীদের নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে’, নাম না করে মমতাকে নিশানা অমিত শাহের
রাজনৈতিক মহলের মতে, শাহের এই বক্তব্যের নিশানায় ছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। কারণ কয়েক দিন আগেই তিনি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লিখে এসআইআর প্রক্রিয়া স্থগিত করার অনুরোধ করেছিলেন। তাঁর মতে, বিএলওদের উপর অযথা চাপ তৈরি করা হচ্ছে এবং যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়াই তাঁদের কাজে নামানো হয়েছে।
মমতা তাঁর চিঠিতে স্পষ্ট অভিযোগ তুলেছিলেন—পরিকল্পনাহীনভাবে এসআইআর চালানো হচ্ছে, যা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের উপরও অযথা চাপ সৃষ্টি করছে। বিএলওদের জোরপূর্বক কাজ করানোর অভিযোগও তুলেছিলেন তিনি। চিঠিতে উল্লেখ ছিল, চলমান প্রক্রিয়া অবিলম্বে থামানো হোক এবং মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের উপযুক্ত সহায়তা দেওয়া হোক।

এই প্রেক্ষিতে শাহের পাল্টা মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন তুলেছে। তিনি বলেন, “বেশ কিছু রাজনৈতিক দল অনুপ্রবেশকারীদের নিরাপত্তা প্রদানে উদ্য়োগী হলে, তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর পক্ষে বিপজ্জনক।” তাঁর মতে, নির্বাচন কমিশন যখন ভোটার তালিকা পরিশোধনে কাজ করছে, তখন কোনও রাজনৈতিক দলকেই এর বিরোধিতা করা উচিত নয়।
এই বিতর্কের আবহে আরও একবার সামনে এসেছে সাম্প্রতিক সময়ের দুটি ঘটনা—জলপাইগুড়ির মাল এলাকায় এক বিএলওর আত্মহত্যা এবং মেমারিতে অন্য এক বিএলওর মৃত্যু। কমিশনের কাজের চাপ নিয়ে যে প্রশ্নগুলি আগে থেকেই উঠছিল, এই ঘটনাগুলি সেই উদ্বেগকেই আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে, মুখ্যমন্ত্রীর চিঠিকে অনেকে মাঠ পর্যায়ের বাস্তব পরিস্থিতির প্রতিফলন হিসেবেই দেখছেন।
তবে অমিত শাহের অভিযোগ মানতে নারাজ তৃণমূল। রাজ্য তৃণমূল সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, “এসআইআর করতে সমস্যা নেই। কিন্তু দু’বছর ধরে কেন করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন উঠছে। আর দেড় মাসে কাজ শেষ করার কথা কে বলছে? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কেন কমিশনের হয়ে কথা বলছেন? উনি কেন কমিশনের কাজে নাক গলাচ্ছেন?”
এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, অমিত শাহ মমতা বিরোধে ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণ প্রসঙ্গটি আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে আরও বড় বিতর্ক তৈরি করতে পারে। অনুপ্রবেশ ইস্যু সবসময়ই সংবেদনশীল, আর বাংলার রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এই ইস্যুটি যে নতুন অগ্নিসংযোগের ইন্ধন দেবে, তা স্পষ্ট।







