নজরবন্দি ব্যুরোঃ আচমকাই যেন বিজেপির পাল থেকে হাওয়া সরে যাওয়ার অবস্থা। গতকাল থেকেই কার্যত বিজেপির জনসভাগুলিতে ভিড় কমেছে লক্ষণীয় ভাবে। ভিড় হয়নি খোদ অমিত শাহের সভাতেও। কোনমতে ভার্চুয়ালি ভাষণ দিয়ে মুখরক্ষা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। অমিতের পর নিতিন গড়করি এমনকি বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডার সভাতেও একই দৃশ্য। লোকজনের উপস্থিতি লক্ষণীয় ভাবে কমে যাওয়া নজরে পড়েছে বিজেপির অন্যতম কাণ্ডারি অমিত শাহের। বদল হচ্ছে প্রার্থী তালিকা, চরম ক্ষুব্ধ শাহ প্রার্থীতালিকার কারনে বিক্ষোভ এবং সভা সমিতিতে ভিড় কমার জন্যে দায়ী করেছে বিজেপির বঙ্গ নেতৃত্ব কে।
আরও পড়ুনঃ চানক্য নীতি থেকে সম্প্রদায় সংরক্ষণ, একাধিক চমক থাকছে তৃণমূলের ইস্তাহারে।
বিজেপি সূত্রে খবর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ সন্ধায় সর্বভারতীয় সহ সভাপতি মুকুল রায় এবং রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে ডেকে পাঠিয়েছেন দিল্লীতে। সেখানে প্রার্থী তালিকা নিয়ে বৈঠক হবে। জানা গিয়েছে প্রকাশিত প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে ৭টি নাম। যার মধ্যে আছেন ক্যানিং পশ্চিম এবং রায়দিঘি কেন্দ্রের প্রার্থীও। পাশাপাশি সিঙ্গুর থেকে সরানো হতে পারে রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এবং উত্তরপাড়া থেকে সরানো হতে পারে প্রবীর ঘোষাল কেও। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রার্থী তালিকার কোন্দল নিয়ে।
রীতিমত ধমক দিয়েছেন মুকুল রায় এবং দিলীপ ঘোষ কে। অমিশ শাহ প্রশ্ন করেন, কেন প্রার্থী তালিকা নিয়ে ক্ষোভের স্মৃষ্টি হল?কিভাবে বাছাই করা হল প্রার্থী? কেন কনফিডেন্সে নেওয়া যাচ্ছে না স্থানীয় নেতৃত্ব কে? বিক্ষোভ কেন সামাল দিতে পারছে না রাজ্য নেতৃত্ব? জানা গিয়েছে অমিত শাহ চান মুকুল রায় এবং দিলীপ ঘোষ ভোটে লড়াই করুন। অমিত চেয়েছেন বীরভূম থেকে লড়াই করুন দিলীপ ঘোষ। পাশাপাশি মুকুল রায় লড়াই করুন কৃষ্ণনগর থেকে।
বঙ্গ বিজেপি সূত্রে খবর অমিতের তলব পেয়ে আজ রাতেই দিল্লী যাচ্ছেন মুকুল এবং দিলীপ। উল্লেখ্য, কৈলাস বিজয়বর্গীয় এবং সৌমিত্র খাঁর উপস্থিতিতে এদিন বিষ্ণুপুরে বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরে রোড শো করেন জেপি নাড্ডা। সর্বভারতীয় সভাপতির রোড শো বলে কথা, বিজেপির প্রস্তুতি ছিল তুঙ্গে। কিন্তু দেখা যায় নির্ধারিত সময়ে অর্থাৎ রোড শো শুরুর সময় নাড্ডার বাসের আগেপিছে সব মিলিয়ে মেরেকেটে হাজার দেড়েক কর্মী সমর্থক। বিরক্ত হলেও গতকাল অমিত শাহর অভিজ্ঞতা নিয়ে রোড শো করেন নাড্ডা।
তাৎপর্যপূর্ন ভাবে এই বিষ্ণুপুর কেন্দ্রে গত লোকসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছিল বিজেপি। বিজেপির টিকিটে জয় পেয়ে লোকসভায় দ্বিতীয়বারের জন্যে পা রেখেছিলেন সৌমিত্র খাঁ। অন্যদিকে, গতমাসেই বর্ধমানে রোড শো করেছিলেন বিজেপি সভাপতি নাড্ডা, ভিড় হয়েছিল চোখে পড়ার মত। সেদিনের আর আজকের ছবির বিস্তর ফারাক। বিজেপির অবশ্য দাবি, খুব গরম পড়ে যাওয়ার জন্যে মানুষ আসেননি কিন্তু সমর্থন রয়েছে বিজেপির প্রতি। বাংলার মসনদে বিজেপি অন্তত ২০০ আসন জিতে বসছেই। যদিও একাধিক ইস্যুতে কার্যত নজিরবিহীন শঙ্কটের মুখে পড়েছে গেরুয়া বাহিনী।



