আগামীকালের আবহাওয়া কেমন থাকবে? শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) সকাল থেকে কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে ফের সক্রিয় হতে চলেছে বর্ষা। বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপের জেরে দিনের বিভিন্ন সময়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি থেকে শুরু করে পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় জারি হয়েছে সতর্কতা। কোথায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হবে, কোন সময়ে বাইরে বেরোলে সতর্ক থাকতে হবে—এক নজরে দেখে নিন সম্পূর্ণ পূর্বাভাস।
এক নজরে আগামীকালের আবহাওয়া
- 🌧️ কলকাতায় সকাল থেকে দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি
- 🌡️ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা: ৩১.৬° সেলসিয়াস
- 🌡️ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা: ২৭.৭° সেলসিয়াস
- 💧 সর্বোচ্চ আপেক্ষিক আর্দ্রতা: ৮৩%
- 🌬️ দক্ষিণ দিক থেকে ঘণ্টায় প্রায় ১৬ কিমি (১০ মাইল) বেগে দমকা হাওয়া
- ⚠️ নিচু এলাকায় জল জমা ও যানজটের সম্ভাবনা
কলকাতার ঘণ্টাভিত্তিক আবহাওয়ার পূর্বাভাস (১৭ জুলাই)
| সময় |
আবহাওয়া |
তাপমাত্রা |
বৃষ্টির সম্ভাবনা |
| রাত ১২:৩০ – ভোর ৪:৩০ |
মেঘলা, কোথাও হালকা বৃষ্টি |
২৭.৭°C |
১০–২০% |
| ভোর ৪:৩০ – সকাল ৭:৩০ |
রোদ-মেঘের লুকোচুরি |
২৮–৩০°C |
৫–২০% |
| সকাল ৮:৩০ – দুপুর ১২:৩০ |
বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টি |
৩১–৩২°C |
৩৫–৬৫% |
| দুপুর ১২:৩০ – বিকেল ৪:৩০ |
বিক্ষিপ্ত বজ্রঝড় |
৩০–৩১°C |
৩৫–৪০% |
| বিকেল ৪:৩০ – রাত ৮:৩০ |
আংশিক মেঘলা |
২৯°C |
৫–১৫% |
| রাত ৮:৩০ – ১১:৩০ |
হালকা বৃষ্টি |
২৮°C |
১৫–২৫% |
কখন সবচেয়ে বেশি বৃষ্টির আশঙ্কা?
আবহাওয়াবিদদের মতে, শুক্রবার সকালে অফিস টাইম থেকেই বৃষ্টির দাপট বাড়তে পারে। বিশেষ করে সকাল ৯টা থেকে দুপুর পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। বিকেলের দিকে বৃষ্টি কিছুটা কমলেও বিচ্ছিন্ন জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকবে।
জল জমা ও যান চলাচলে সমস্যা হতে পারে
ভারী বৃষ্টির কারণে কলকাতার নিচু এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং জলনিকাশির সমস্যাযুক্ত অংশে জল জমার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে অফিসযাত্রীদের অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বৃষ্টির সময় দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে, তাই গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে।
দক্ষিণবঙ্গে কোথায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি?
শুধু কলকাতা নয়, শুক্রবার দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকাতেও বৃষ্টির দাপট বজায় থাকবে।
ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে—
- পশ্চিম বর্ধমান
- বাঁকুড়া
- পুরুলিয়া
- ঝাড়গ্রাম
এছাড়া কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
উত্তরবঙ্গেও দুর্যোগের আশঙ্কা
দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির জন্য সতর্কতা জারি হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি নদীর জলস্তর বাড়তে পারে বলে প্রশাসন সতর্ক থাকতে বলেছে।
মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মুর্শিদাবাদে মূলত মেঘলা আকাশের সঙ্গে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
মৎস্যজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা
বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় উত্তর বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে ১৫ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরে স্থানীয় সতর্কতাসংকেতও জারি রয়েছে।
বজ্রপাতের সময় কী করবেন?
- খোলা মাঠে অবস্থান করবেন না।
- গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়া এড়িয়ে চলুন।
- বজ্রপাতের সময় মোবাইল চার্জে ব্যবহার না করাই ভালো।
- প্রয়োজন না হলে বাইরে বেরোবেন না।
- সঙ্গে অবশ্যই ছাতা বা রেনকোট রাখুন।
আগামীকালের আবহাওয়া কেন এত খারাপ?
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের মতে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া গভীর নিম্নচাপ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর ওড়িশা উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। এর প্রভাবেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আর্দ্রতাপূর্ণ বাতাস ঢুকছে এবং সেই কারণেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের অধিকাংশ জেলাতেই আবহাওয়ার বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। সকাল থেকেই বৃষ্টির জন্য প্রস্তুত থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে অফিসযাত্রী, স্কুল-কলেজের পড়ুয়া এবং দীর্ঘপথের যাত্রীদের আবহাওয়ার আপডেট দেখে তবেই বেরোনোর পরামর্শ দিচ্ছেন আবহাওয়াবিদরা। সমুদ্রে যাওয়া, পাহাড়ি এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ বা বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় থাকা এড়িয়ে চলুন।
FAQ
আগামীকাল কলকাতায় কি ভারী বৃষ্টি হবে?
হ্যাঁ। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামীকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা কত থাকবে?
প্রায় ৩১.৬° সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে।
কোন জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে?
পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার-সহ একাধিক জেলায়।
মৎস্যজীবীদের জন্য কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে?
১৫ থেকে ১৮ জুলাই পর্যন্ত উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।