কলকাতায় নতুন করে ভয় ধরাতে শুরু করেছে করোনা ভাইরাস। কলকাতায় বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। আরও চার জনের দেহে ভাইরাসের উপস্থিতির খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। সব মিলিয়ে কলকাতায় এই মুহুর্তে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১২। যে চার জনের দেহে করোনা ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে, সেই চার জনই শহরের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চার জনের মধ্যে এক জন আনন্দপুরের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি, তিনি কেষ্টপুরের বাসিন্দা। কিছুদিন আগে তাঁর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। তার পরেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর বয়স ৭২ বছর।

এ ছাড়া, ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে তিন জন রোগীর দেহে করোনার সন্ধান মিলেছে। ICU তে লড়ছেন ৩ জন। করোনা আক্রান্ত ওই রোগীরা হলেন বালিগঞ্জের ৮৩ বছর বয়সি বৃদ্ধ, সন্তোষপুরের ৭৯ বছর বয়সি বৃদ্ধা এবং হাওড়ার দানেশ শেখ লেনের ৮৩ বছরের বৃদ্ধা। চিকিৎসকদের মতে যাদের শরীতে নতুন করে করোনা বাসা বাঁধছে তারা প্রায় সবাই সিনিয়র সিটিজেন, এবং কোমর্বিডিটি যুক্ত।
তবে গত সপ্তাহে করোনা আক্রান্তদের তালিকায় ছিল ছ’মাসের এক শিশুও। আক্রান্তদের নমুনা জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছিল। করোনার যে নতুন উপরূপ জেএন.১ সম্প্রতি বিশ্বের নানা প্রান্তে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে, কলকাতার এখন পর্যন্ত কোনও রোগীর দেহে সেই উপরূপ পাওয়া যায়নি।
উৎসবের আবহে চোখ রাঙাচ্ছে করোনার নতুন ভ্য়ারিয়েন্ট। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য়মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, একদিনে দেশে সংক্রমণ ছড়িয়েছে ৭৫২ জনের শরীরে। WHO জানিয়েছে, গত এক মাসে, গোটা বিশ্বে করোনার দাপট বৃদ্ধি পেয়েছে ৫২ শতাংশ।
উদ্বেগ বাড়াচ্ছে কোভিডের নয়া ভেরিয়েন্ট, কলকাতায় বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা, বেসরকারি হাসপাতালের ICU তে লড়ছেন ৩ জন

রাজ্য সরকারের তরফে করোনা মোকাবিলা করার জন্যে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শ্বাসকষ্ট বা ইনফ্লুয়েঞ্জার রোগীদের চিকিৎসার জন্য় পর্যাপ্ত পরিকাঠামো রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে। কোভিড টেস্টের পরিকাঠামোও পরিদর্শন করেছে স্বাস্থ্য দফতরের স্পেশাল টিম।
এদিকে, ভারতসহ বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাসের সাবভ্যারিয়েন্ট জেএন.১। চলতি বছরের নভেম্বরের শুরুতে আক্রান্তের হার ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। কিন্তু গত এক মাসে বিশ্বব্যাপী এটি ছড়িয়ে পড়ার হার ৫২ শতাংশ ছাড়িয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যুর খবরও পাওয়া যাচ্ছে। জেএন.১-এর লক্ষণগুলোর সঙ্গে ভাইরাসটির আগের ধরনের উপসর্গগুলোর সাদৃশ্য আছে। যেমন জ্বর, সর্দি, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, ইত্যাদি লক্ষ করছেন চিকিৎসকেরা।



