নজরবন্দি ব্যুরোঃ মিনাখাঁ-হিঙ্গলগঞ্জ থেকে পানিহাটি- বিধাননগর, ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত বঙ্গ। ভোট মেটার পরেও একের পর এক হিংসা হানাহানির ঘটনা উঠে আসছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে বসিরহাটের মিনাখাঁ ও হিঙ্গলগঞ্জ বিধানসভায়। গুলি-বোমা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নাম উঠে এসে তৃণমূল বিজেপি দু পক্ষেরই।
আরও পড়ুনঃ “বড়মার চিঠি আছে” পরিবারতন্ত্রের বিরোধিতার সাথেই মতুয়াদের মন জয় মমতার।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আচমকাই পানিহাটি পুরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ড ঘোলা মুসলমানপাড়া এালাকায় বোমাবাজি শুরু হয়। পরপর বেশ কয়েকটি বোমা পড়ে এলাকায়। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূলই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল। বোমাবাজির ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে এলাকায়। স্থানীয় সূত্রে কেউ কেউ বলছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়েছিল। যদিও এ ব্যাপারে সত্যতা জানা যায়নি। ঘোলা থানার পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কারা বোমাবাজি করল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। পানিহাটি এবার এমনিই টানটান লড়াইয়ের কেন্দ্র। তৃণমূল নেতা তথা বিদায়ী বিধানসভায় শাসকদলের মুখ্যসচেতক নির্মল ঘোষের সঙ্গে মূল লড়াই বিজেপির সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
সন্ময়বাবু গতবার এই কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী হিসেবে লড়েছিলেন। এদিকে ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত সল্টলেকের দত্তাবাদ। বিজেপি এজেন্ট এবং কর্মীদেরকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। বিজেপির অভিযোগ, সল্টলেক দত্তাবাদ ডিয়ার ক্লাবের কাছে বিজেপির এজেন্টসহ পাঁচ বিজেপির কর্মীকে মারধর করে তৃণমূল সমর্থকেরা। এমনকি চপার দিয়ে তাদের আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ তাদের।
এই ঘটনায় তৃণমূল নেতা তথা বিধাননগর পৌরনিগমের প্রশাসক মন্ডলীর সদস্য নির্মল দত্ত ও তার অনুগামীদের দিকে অভিযোগের তির উঠেছে। তারাই মারধর করেছে বলে দাবি করেছেন বিজেপি সমর্থকরা। এমনকি অভিযোগ, পুলিশের সামনেই তাদেরকে মারধর করা হয়। গোটা ঘটনায় পুলিশ নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে বলে অভিযোগ তাদের। বিজেপি কর্মীরা বলেন, গতকাল তাঁরা বুথের এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছিল। এরপরই নির্মল দত্তের প্ররোচনায় তার অনুগামীরা আজ তাদের ওপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ।
মিনাখাঁ-হিঙ্গলগঞ্জ থেকে পানিহাটি- বিধাননগর, ভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত বঙ্গ। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে বিধান নগর দক্ষিণ থানায় ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বিজেপির পক্ষ থেকে। ঘটনার তদন্তে নেমেছে বিধান নগর দক্ষিণ থানার পুলিশ। সবমিলিয়ে ভোট মিটলেও কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না ভোট পরবর্তী হিংসা।



