শীতকালীন অধিবেশনে বারবারই উঠে এসেছে বঞ্চিত বাংলা ইস্যু। কেন্দ্রীয় বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রে তৃণমূল সাংসদরা ইতিমধ্যেই একাধিক কঠিন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে উঠল, যখন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পুনর্গঠনের খাতে কেন্দ্র কত অর্থ দিয়েছে তা নিয়ে লিখিত প্রশ্ন উত্থাপন করেন।
প্রশ্নের উত্তরে কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী শ্রীপদ নায়েক যে পরিসংখ্যান পেশ করেন, তাতেই স্পষ্ট হয়ে যায়—বঞ্চিত বাংলা অভিযোগ যে ভিত্তিহীন নয়। বরং অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিই পেয়েছে সিংহভাগ অর্থ। পশ্চিমবঙ্গের প্রাপ্তি তার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য।


বঞ্চিত বাংলা, সংসদে অভিষেকের প্রশ্নে কেন্দ্রের ‘বৈমাতৃসুলভ’ আচরণ প্রকাশ
গত তিন অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬৪২৩ কোটি টাকা। কিন্তু তার বিপরীতে যে অর্থ বাস্তবে রাজ্যের হাতে পৌঁছেছে তা প্রায় নগণ্য। ২০২৩-২৪ সালে মাত্র ২২১ কোটি, ২০২৪-২৫ সালে ৬০১ কোটি এবং সর্বশেষ বছরে মাত্র ৪৯ কোটি টাকা রাজ্য পেয়েছে। অর্থাৎ বরাদ্দের তুলনায় যা প্রায় অর্ধ শতাংশও নয়। বঞ্চিত বাংলা অভিযোগ তাই আরও জোরালো হল।
অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট, রাজস্থান ও বিহারের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি পুনর্গঠন খাতে বরাদ্দের বড় অংশই পেয়ে গিয়েছে। এমনকি অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মধ্যে তামিলনাড়ুও অর্থপ্রাপ্তিতে বাংলার থেকে অনেক এগিয়ে। রাজনীতির মাঠে তাই প্রশ্ন উঠছে—এতদিন ধরে যে বৈষম্যের অভিযোগ করা হচ্ছিল, অভিষেকের প্রশ্নে তা কি এবার তথ্য সহকারে প্রমাণিত হল?
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদে স্পষ্ট জানতে চান—কেন বাংলার বরাদ্দ অর্থ আটকে রাখা হয়েছে? কোন যুক্তিতে অন্যান্য রাজ্যে সম্পূর্ণ অর্থ ছাড় করা হলেও পশ্চিমবঙ্গে তা নামমাত্র? কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উত্তরে বলা হয়, বরাদ্দমতো টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে পরিসংখ্যানই দেখিয়ে দিচ্ছে, সেই দাবি কতটা বাস্তব।


বঞ্চিত বাংলা প্রসঙ্গটিকে ঘিরে রাজনৈতিক তাপমাত্রা ইতিমধ্যেই চড়েছে। তৃণমূলের বক্তব্য—রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই কেন্দ্র বাংলা–বিরোধী নীতি নিচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষত বিদ্যুৎ ও পরিকাঠামো উন্নয়নের প্রকল্পগুলি। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, তৃণমূল সরকারের প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণেই প্রকল্পের অর্থ আটকে আছে।
তবে সংসদীয় তথ্য বলছে ভিন্ন কথা। বরাদ্দ ও প্রাপ্ত অর্থের বিপুল ব্যবধান সরাসরি ইঙ্গিত করছে কেন্দ্রীয় বন্টনে সমতা নেই। আর এই অসমতা নিয়েই ফের সরব হয়েছে তৃণমূল।
শীতকালীন অধিবেশনের বাকি দিনগুলিতেও বঞ্চিত বাংলা ইস্যু যে তৃণমূলের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠবে, তা স্পষ্ট।









