ইডি গ্রেপ্তারি নিয়ে বিজেপিকে তোপ, জীবনের পাশে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহাকে ইডি গ্রেপ্তারের পর বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, দুর্নীতি দমন নয়, বিরোধী দমনই মূল লক্ষ্য।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার গ্রেপ্তারিকে ঘিরে ফের তীব্র রাজনৈতিক তাপমাত্রা। এবার সরাসরি বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ইডির মূল কাজ দুর্নীতি দমন নয়, বরং বিরোধীদের দমন করা।

তৃণমূল কংগ্রেসের অফিসিয়াল X হ্যান্ডলে প্রকাশিত এক ভিডিওতে অভিষেক বলেন, “একটি E মানে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। তাকে ইচ্ছে মতো ব্যবহার করা যায় না। দ্বিতীয়ত আরেকটি E মানে ইনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। এর কাজ দুর্নীতি দমন নয়। বিজেপির লক্ষ্য হল বিরোধীদের জেলে পাঠানো।”

অভিষেক আরও অভিযোগ করেন, বিজেপি সরকার সাধারণ মানুষ, কৃষক, গরিব, তফসিলি জাতি, উপজাতি— কারও পক্ষেই নয়। তাঁর ভাষায়, “বিজেপিকে একটিও ভোট মানে দেশের আত্মা, সংবিধানকে লোভীদের হাতে তুলে দেওয়া।”

রাজনৈতিক মহলে জল্পনা
জীবনকৃষ্ণ সাহার গ্রেপ্তারি ঘিরে ইতিমধ্যেই শাসকদলের মধ্যে ক্ষোভ স্পষ্ট। শাসক তৃণমূল মনে করছে, এটি নিছক আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ। দলীয় সূত্রের দাবি, বিরোধীদের কালিমালিপ্ত করতেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলি ব্যবহার করছে বিজেপি।

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ‘দাগি’ মন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী অপসারণ বিল নিয়ে সংসদে চরম টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। ঠিক সেই সময়েই ফের ইডির জালে ধরা পড়লেন এক তৃণমূল বিধায়ক। এর আগে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে দেড় বছর আগে জামিন পেয়েছিলেন জীবনকৃষ্ণ সাহা। এবার ফের তাঁর গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে শাসক শিবিরে ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

বিরোধীদের দমন নীতি?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণ আসন্ন নির্বাচনের আগে কেন্দ্র-বিরোধী সুর আরও উঁচুতে তুলবে। তৃণমূলের অভিযোগ, “দুর্নীতি তদন্তের আড়ালে বিরোধী দমনই বিজেপির প্রধান অস্ত্র।”

অন্যদিকে, বিজেপির তরফে পাল্টা দাবি, তদন্তকারী সংস্থা নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে। তবে শাসক শিবিরের বক্তব্য, বিজেপির নির্দেশ ছাড়া ইডি বা সিবিআই কখনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের টার্গেট করে না।

পরবর্তী পরিস্থিতি
জীবনকৃষ্ণ সাহাকে নিয়ে আইনি লড়াই চলবে বলেই ইঙ্গিত দিয়েছেন তৃণমূল নেতারা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক মহলে এখন নজর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আক্রমণ বিরোধী জোটের রাজনীতিতে কতটা প্রভাব ফেলে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর