‘কোর্টে যাব’, নির্বাচন কমিশনকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

পাঁচ প্রশ্নের একটিতেও সদুত্তর নেই, অভিযোগ অভিষেকের; বিজেপিকে ইডি–কমিশনের ভরসায় রাজনীতি করার তোপ

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আবারও সরাসরি আক্রমণ করলেন নির্বাচন কমিশনকে। দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠকের পর পাঁচটি প্রশ্ন তুলেছিলেন অভিষেকরা। কিন্তু তার একটিরও উত্তর মেলেনি বলে দাবি করে এবার তিনি কমিশনকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন—সদুত্তর না মিললে ‘কোর্টে যাব’।

এই মন্তব্যের পর রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। কারণ নির্বাচন কমিশন নিয়ে তৃণমূল বনাম বিজেপির টানাপোড়েন নতুন নয়, তবে এ বার অভিষেকের সুর আরও কঠোর, আরও সরাসরি।

- Advertisement -

‘কোর্টে যাব’, নির্বাচন কমিশনকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

‘একটারও উত্তর দেননি’, ক্ষুব্ধ অভিষেক

সোমবার এক অনুষ্ঠানে দাঁড়িয়ে অভিষেক অভিযোগ করেন, দিল্লিতে তাঁদের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল যে পাঁচটি প্রশ্ন করেছিল, সেগুলোর কোনোটিরই উত্তর দিতে পারেননি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার।

তাঁর কথায়,
“আমি কমিশনকে চ্যালেঞ্জ করছি। পাঁচটা প্রশ্নের একটারও উত্তর দিন। যদি মনে করি, আপনারা সদুত্তর দিয়েছেন, তারপর আপনাদের আমরা কোর্টে নিয়ে যাব। হাওয়ায় কথা বলি না, ভেবে চিন্তেই বলছি।”

অভিষেক আরও বলেন, সেই পাঁচ প্রশ্নের কয়েকটি আগেই লিক হয়েছিল, যা নিয়ে কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তাঁর দাবি, নির্বাচন কমিশন নিজেদের দায়িত্বশীল অবস্থান থেকেও কোনও বাস্তবিক ব্যাখ্যা দিতে চায় না।

বিজেপির বিরুদ্ধে সরাসরি তোপ

বক্তৃতায় বিজেপিকে ইডি, সিবিআই ও কমিশনের ভরসায় রাজনীতি করার অভিযোগ তোলেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, সংগঠন দুর্বল হয়ে যাওয়ায় বিজেপি রাজনৈতিক লড়াই না করে তদন্ত সংস্থা ও প্রশাসনিক পথকে ব্যবহার করছে।

- Advertisement -

অভিষেকের ভাষায়,
“হাইকোর্ট কী বলবে, কমিশন কত নাম বাদ দেবে—সবই আগে থেকে বলে দেয় বিজেপি। এত পারদর্শী হল কীভাবে? ইডি, সিবিআই, কমিশনের ভরসায় ভোট জিততে চায় ওরা।”

এই মন্তব্যের মধ্যেই উঠে আসে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিজেপি নেতাদের বারবার করা দাবি—‘বাদ যাবে ১ কোটি নাম’। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী থেকে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য—সকলের মুখেই একই সংখ্যা। অভিষেক মনে করেন, এ ধরনের ‘পূর্বাভাস’ আসলে কমিশনের নিরপেক্ষতার ওপর প্রশ্ন তৈরি করছে।

ভোটের সময় নিয়ে নতুন জল্পনা

এ সবের মধ্যেই নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যে—ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ভোট শুরু হবে। এত আগেই বিজেপির এই ‘নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী’ নিয়েও বিদ্রূপ করেন অভিষেক।

তাঁর প্রশ্ন—
“ওরা কীভাবে জানে কমিশন কী করবে? কীভাবে আগে থেকেই তারিখ বলে দেয়? এই তাহলে কমিশনের নিরপেক্ষতা?”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, তত দুই পক্ষের পারস্পরিক আক্রমণ বাড়তে থাকবে। বিশেষত ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা SIR প্রক্রিয়া ঘিরে এখন রাজ্য জুড়ে চাপান-উতোর চলছে।

কমিশনকে চ্যালেঞ্জের রাজনৈতিক গুরুত্ব

তৃণমূলের তরফে এই চ্যালেঞ্জের গুরুত্ব বিশাল। কারণ সরাসরি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে অভিষেক যে অবস্থান স্পষ্ট করলেন, তাতে বোঝাই যাচ্ছে—ভোটের আগে প্রশাসনিক লড়াইয়ের মোড় ঘুরছে।

রাজনীতিতে এই বার্তা স্পষ্ট—তৃণমূল বিশ্বাস করে কমিশন নিরপেক্ষ নয়, আর বিজেপি মনে করে কমিশন শুধু আইন মেনে চলছে। এই মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বই আগামী ভোটে রাজ্যের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর