ইরাকে আটকে পড়া ১২ শ্রমিককে দেশে ফেরাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

ইরাকে ভিসার মেয়াদ পেরিয়ে বিপাকে পড়েছিলেন বাংলার ১২ জন পরিযায়ী শ্রমিক। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে শুরু হয়েছে তাঁদের দেশে ফেরার প্রক্রিয়া।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ইরাকে আটকে পড়া বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা ব্লকের অন্তত আট জন শ্রমিকসহ মোট ১২ জন দীর্ঘদিন ধরে ইরাকে বিপাকে পড়েছিলেন। পরিবারের দাবি, তাঁরা দু’বছরের চুক্তিতে সেখানে কাজ করতে গিয়েছিলেন, কিন্তু চুক্তির মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও তাঁদের ফেরানো হয়নি।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই শ্রমিকদের ভিসার মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়ে গিয়েছে। দু’বছরের চুক্তি শেষ হওয়ার পরও প্রায় আট মাস ধরে তাঁরা বিদেশে আটক ছিলেন, কোনও সঠিক বেতন বা খাবার না পেয়ে মারাত্মক কষ্টের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। অবশেষে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হন এবং বিষয়টি মথুরাপুরের সাংসদ বাপি হালদারের মাধ্যমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছায়।

Shamim Ahamed Ads

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত পদক্ষেপ করে ইরাকে আটকে পড়া শ্রমিকদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করেন। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই একজন শ্রমিক পশ্চিমবঙ্গে ফিরে এসেছেন এবং বাকিদের পাসপোর্ট-ভিসা রিনিউ করে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বাপি হালদার আটকে পড়া শ্রমিকদের পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী ও পোশাক তুলে দেন। তিনি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৎপরতায় ইতিমধ্যেই একজন শ্রমিক বাড়ি ফিরেছেন। বাকিদেরও খুব শিগগিরই ফিরিয়ে আনা হবে। প্রশাসন ও বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে পুরো বিষয়টি সমাধানের পথে।”

পরিবারের সদস্যদের মুখে এখন স্বস্তির হাসি। এক শ্রমিকের স্ত্রী মাসুদা বিবি বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আমার স্বামীকে আটকে রেখে মারধর করা হয়েছিল, খেতেও দিত না। এখন শুনছি শনিবার ও বাড়ি ফিরবে—এটাই আমাদের জন্য বড় স্বস্তি।”

ইরাকে আটকে পড়া শ্রমিকদের পরিবারের অভিযোগ, নিয়োগকারী সংস্থা চুক্তি শেষ হলেও তাঁদের জোর করে কাজে লাগাতো। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ও পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। ফলে তাঁরা যোগাযোগ করতে পারেননি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপের পর পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরানোর জন্য ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এবং ইরাক সরকারের মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, প্রয়োজনীয় নথি যাচাই শেষ হলে কয়েক দিনের মধ্যেই বাকি শ্রমিকরাও নিরাপদে দেশে ফিরবেন।

এই ঘটনা আবারও সামনে এনে দিল পরিযায়ী শ্রমিকদের দুরবস্থা এবং বিদেশে কাজ করতে গিয়ে তাঁদের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার বাস্তব চিত্র। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দ্রুত পদক্ষেপ প্রশাসনিক সংবেদনশীলতার এক দৃষ্টান্ত।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানার গ্রামগুলোতে এখন একটাই আশা—বিদেশে আটকে থাকা প্রিয়জনেরা যেন দ্রুতই বাড়ি ফেরে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত