সোমবার সিবিআই-এর দুর্নীতি দমন শাখার হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন আরজি কর মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। আর আজ, মঙ্গলবার তাঁকে আলিপুর আদালতে তোলা হল। সেই সময় ‘চোর-চোর’ স্লোগানের পাশাপাশি সন্দীপকে সপাটে চড় মারলেন এক বিক্ষোভকারী! একই সঙ্গে মহিলা ও পুরুষ আইনজীবীদের সমবেতভাবে সন্দীপ ঘোষের ফাঁসির দাবিতে সরব হতে দেখা গেল।
আরজি করে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় প্রথম থেকেই শিরোনামে সন্দীপ ঘোষ। তাঁকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদের পর অবশেষে ঘটনার ২৩ দিনের মাথায় সিবিআই গ্রেফতার করে তাঁকে। সন্দীপ ছাড়াও গ্রেপ্তার হয়েছেন হাওড়ার সাঁকরাইলের বাসিন্দা বিপ্লব সিংহ, ওষুধের দোকানের মালিক সুমন হাজরা এবং সন্দীপের নিরাপত্তারক্ষী আফসর আলি। এই চারজনকেই আজ আদালতে তোলে সিবিআই এবং চারজনের ক্ষেত্রেই ৮ দিনের সিবিআই হেফাজতে নির্দেশ দিল আলিপুর বিশেষ আদালত।
আরজি করের ঘটনার পর টানা ১৫ দিন ধরে সন্দীপকে জেরা করে সিবিআই। তাঁর বাড়িতে গিয়েও অনেক তথ্য সংগ্রহ করে আনেন কেন্দ্রীয় এজেন্সির গোয়েন্দারা। সন্দীপের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ তুলেছেন আরজি করের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। চিকিৎসা সরঞ্জাম বেআইনিভাবে বিক্রি করার পাশাপাশি মর্গ থেকে লাশ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সন্দীপের বিরুদ্ধে। এমনকি চিকিৎসক পড়ুয়াদের থেকে পাশ-ফেল করানোর জন্যও টাকা নিতেন সন্দীপ!
আজ যখন সন্দীপকে আদালতে সিবিআই নিয়ে যাচ্ছিল সেই সময় আদালত চত্বরে নিরাপত্তারক্ষীর সংখ্যা কিছুটা হলেও কম ছিল। যে কারণে আদালতে প্রবেশ করাতে রীতিমত বেগ পেতে হয় সিবিআই অফিসারদের। আরজি করার প্রাক্তন অধ্যক্ষকে ঘিরে ধরে প্রথমে ‘চোর চোর’ স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। এরই মধ্যে এক ব্যক্তি সন্দীপকে চড় মেরে বসেন!
অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের তরফে ধর্ষণবিরোধী ‘অপরাজিতা বিল ২০২৪’ মঙ্গলবার ধ্বনিভোটের মাধ্যমে পাশ হল বিধানসভায়। এই বিল প্রথমে রাজ্যপালের কাছে হয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। সবপক্ষের সমর্থন পেলে এই বিল পরিণত হবে আইনে। মঙ্গলবার বিরোধীরা এই বিলকে সমর্থন জানালেও মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং পুলিশমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবি জানালে বিধানসভায় তুমুল হইহট্টগোলের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।



