নজরবন্দি ব্যুরোঃ ২০২৮ এর দেশের আগামী লোকসভা নির্বাচন। এখন থেকেই শুরু হয়েছে যুদ্ধের সলতে পাকানো। বাংলায় তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতায় ফিরেই তৃণমূল সরকার নজর দিয়েছে দেশ বিজয়ের লক্ষ্যে। তৈরেই হয়েছে নিঁখুত ছক। এই মূহুর্তে মা-মাটি-মানুষের দলের নজর ত্রিপুরায়। ২৩ এর ত্রিপুরা ভোট জিতে নিলেও মোদি বিরোধী দল্গুলির ভরকেন্দ্রে আসবে তৃণমূল, সেখান থেকেই শুরু হবে ২৪ এর লড়াই।
আরও পড়ুনঃ দুয়ারে রেশন নিয়ে জটিলতা, হাল সামলাতে আসরে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী Jyotipriyo Mullick
তবে রাজনীতির ভেতরে একাধিক পরিকল্পনা হলেও, জল্পনা ছিল ২৪ এর ভোটের স্বার্থে কী হবে কংগ্রেস আর তৃণমূলের সমীকরণ। ভবানীপুর উপনির্বাচনে ২৪ এর ভোটের লক্ষ্যে মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী দেয়নি কংগ্রেস, আসছে না জোট শরিক বামেদের হয়ে প্রচারেও। সেখানে বিজেপি বিরোধী দলের মধ্যে রাহুলের অবস্থান নিয়ে কী ভাবছে তৃণমূল কংগ্রস তাই নিয়ে প্রশ্ন ছিল হাজার।

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফ থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে সেই জায়গা। উত্তর কলকাতার তৃণমূলের কর্মী সভা থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে মোদির বিকল্প হিসেবে সুযগ এলেও নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি রাহুল গান্ধী। আর ২০১৯ এর ঘটনার পুনরাবৃত্তি চায়না তৃণমূল। ১৯ এর ভোটে বিজেপি জেতার কারণ হিসেবে অনেকেই বলেছিলেন দেশে মোদি বিরোধী মুখের অভাবেই ফের ক্ষমতায় ব্যাক করেছেন নমো।
যেহেতু সময় পাওয়ার পরেও রাহুল নিজেকে বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে পারেননি, তৃণমূলের বক্তব্য জোট হলে এবার বিজেপি বিরোধী জোটের মুখও হবেন মমতাই। সুদিপ বন্দ্যোপাধ্যায় সাফ জানিয়েছেন, ” আমি রাহুল গান্ধীকে অনেক দিন চিনি, তবে তিনি মোদির বিকল্প নন, দেশে এবার মোদির বিকল্প দরকার, আর সেতা হতে পারেন একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন বাংলার বাইরেও গুজরাট থেকে গোয়ার মানুষ চাইছেন মমতাকেই।

উত্তর কল্কতার ওই কর্মী সভার পরেই শুক্রবার তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’ তে ‘রাহুল গান্ধী পারেননি, মমতাই বিকল্প মুখ’ নামে একটি প্রতিবেদন ও প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষের বক্তব্য, “উত্তর কলকাতার জেলা তৃণমূলের কর্মী সম্মেলন ছিল। সেখানে লোকসভায় আমাদের দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় খুব বুঝিয়েই বলেন, এটা একটা ব্যাখ্যা। এখানে কংগ্রেসকে অসম্মান করা বা রাহুল গান্ধীকে অসম্মান করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না কিংবা কংগ্রেসকে বাদ দিয়েও কোনও বিকল্পের কথা বলেননি। যেটা বলা হয়েছে, রাহুল গান্ধীকে নরেন্দ্র মোদীর বিকল্প মুখ হিসাবে মানুষ গ্রহণ করছেন না। তিনি এখনও প্রস্তুত নন। ২০১৪ সাল, ২০১৯ সাল বার বার সুযোগ পেয়েও তিনি এখনও সেই জায়গাটা প্রমাণ করতে পারেননি। অথচ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফলে একটা আলাদা ছাপ তৈরি করেছেন।

এই ফলাফলে গোটা দেশের নজর ছিল। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ থেকে দেশের বিজেপি নেতারা এসে তৃণমূলকে হারাবার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস তাদের হারিয়ে দিয়েছে। সে জায়গাতেই সুদীপবাবুর ব্যাখ্যায়, যেহেতু রাহুল গান্ধী বিকল্প মুখ হিসাবে এখনও প্রস্তুত নন। সারা দেশের মানুষ তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চাইছেন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এই ধরনের একটা প্রচার হবে।” অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য্যের মতে, জোটের মুখ নিয়ে জল্পনা, আলোচনা থাকে, থাকবেই, তবে সিদ্ধান্ত হবে সুলে বসে, একসঙ্গে।



