নজরবন্দি ব্যুরোঃ পুলিশের জালে নয়া জালিয়াত, গ্রেফতার ‘নকল সিবিআই আইনজীবী’ সনাতন। একের পর এক জালিয়াত পুলিশের জালে। দেবাঞ্জন দেবের পর আরও এক ভুয়ো অফিসার গ্রেফতার কলকাতায়। বাজেয়াপ্ত সিবিআই স্টিকার লাগানো নীল বাতি গাড়ি। বরানগরের বাসিন্দা ওই ব্যক্তির নাম সনাতন রায়চৌধুরি। তিনি কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী। তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের আইনজীবী হিসাবে প্রভাব খাটিয়ে ১০ কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তাঁকে মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘ল্যাজ ছাড়া হুনু!’, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর বেনজির আক্রমনের মুখে বিজেপি।
গত মাসের ৩০ তারিখ তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ জমার পর পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে তালতলা থানাতেও ভুয়ো পরিচয়ে সম্পত্তি সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগ দায়ে হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে ওঠাবসা ছিল তাঁর। সেই প্রভাব খাটিয়েই প্রতারণা করেছেন নিজেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সিবিআইয়ের বিশেষ কৌঁসুলি হিসাবে পরিচয় দেওয়া সনাতন।নিজের জালিয়াতি ঢাকতে চেষ্টার কসুর করেননি সনাতন। দেবাঞ্জনের গ্রেফতারের ছবি দেওয়া একটি সংবাদ নেটমাধ্যমে ২৫ জুন পোস্ট করেন সনাতন। এর পর লেখেন “দয়াকরে প্রতারকদের থেকে সাবধান হন।” আপতদৃষ্টিতে নিজেকে ‘সচেতন নাগরিক’ এবং নেটমাধ্যেমে নিজের ‘স্বচ্ছ ভাবমূর্তি’ বজায় রাখতেই সনাতন এই পোস্ট করেন বলে মনে করছেন অনেকে। এছাড়াও নেটমাধ্যমে একাধিক ছবিতে সিবিআই-এর নিজাম প্যালেসের অফিসকে ট্যাগ করা হয়েছে।
পুলিশের জালে নয়া জালিয়াত, গ্রেফতার ‘নকল সিবিআই আইনজীবী’ সনাতন। এদিকে তাঁর সঙ্গে বিজেপি যোগ ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে পুলিশের কাছে। ইতিমধ্যেই তাঁর সঙ্গে বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষের ছবি ভাইরাল নেটদুনিয়ায়। আর এবার সনাতন রায়চৌধুরীর কাছ থেকে তাঁর নামে বিজেপি-র ‘প্রাথমিক সদস্যপদের রসিদ’ খুঁজে পেল পুলিশ। সূত্রের খবর, তাঁর কাছ থেকে পদ্মফুলের ছবি দেওয়া ‘ভিজিটিং কার্ড’-ও পাওয়া গিয়েছে। তাতে ‘এগজিকিউটিভ মেম্বার, ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস সেল’ লেখা রয়েছে। ওই কার্ডে নয়াদিল্লির ১১ অশোক রোডে বিজেপি-র সদর দফতরের ঠিকানাও রয়েছে। যদিও বিজেপি-র তরফে মঙ্গলবার জানানো হয়েছে, দলীয় সদস্যপদের জন্য রসিদ প্রয়োজনই হয় না। তবে এই নিয়ে ইতিমধ্যেই পারদ চড়াতে শুরু করেছে রাজ্যের শাসকদল।



