এখন রেল চালালে দুনিয়ার লোকে কোভিড ছড়াবে, মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কায় বন্ধই থাকছে লোকাল।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ এখন রেল চালালে দুনিয়ার লোকে কোভিড ছড়াবে। এদিন সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের চেন ভাঙার জন্যই রাজ্য জুড়ে কড়া বিধি নিষেধ চালু করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। কড়াকড়ির এক মাস পরে ব্যাবসা এবং একাধিক কারণের দিকে দিকপাত করে একাধিক বিষয়ে নিয়ম মেনে ছাড় দিয়েছে রাজ্য, একে একে খুলছে অফিস-দোকান পাট।

আরও পড়ুনঃ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে অনুমোদন মমতার, চাকরি পাওয়ার পর ফেরত!

মে মাসে রাজ্যে করোনা বিধিনিষেধ চালুর পর থেকেই বন্ধ লোকাল ট্রেন পরিষেবা। যার ফলে শহরতলি থেকে কর্মস্থলে পৌঁছতে পারছেন না বহু মানুষ। লোকাল ট্রেন পরিষেবা কবে শুরু হবে তা নিয়ে উদ্গ্রীব তাঁরা। এরই মধ্যে রেলের তরফে লোকাল ট্রেন চলাচল শুরুর আবেদন জানানো হয়েছে স্টাফ স্পেশালে ভিড় এড়াতে। কিন্তু নিজের ঘোষণায় অবিচল মুখ্যমন্ত্রী।

এদিন নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে ট্রেন চালানো নিয়ে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। এখন রেল চালালে দুনিয়ার লোকে কোভিড ছড়াবে জানিয়ে তিনি বলেন, “অন্য জায়গায় কারফিউ হয়েছে। আমাদের তো দোকানপাট খোলা। সবজি বিক্রেতারা গাড়ি করে আসতে পারছে।” সুতরাং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত দিয়েছেন এখন লোকাল ট্রেন চলার কোন সম্ভাবনা নেই।

এদিকে, রাজ্য জুড়ে বন্ধ গণপরিবহন। ট্রেন চললেও তা স্টাফ স্পেশ্যাল। ফলে যাতায়াতে প্রবল কষ্টের মুখে পড়ছে দৈনিক যাত্রীরা। আজই লোকাল ট্রেন চালানোর দাবীতে বিক্ষোভ দেখা দিয়েছে  সোনারপুর-মল্লিকপুর সহ একাধিক স্টেশনে। মল্লিকপুর স্টেশনে বিক্ষোভ-পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে যখম হন পুলিশের কর্তারা, যখম হন রেলের আধিকারীকরাও। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ স্টাফ ট্রেন ছাড়াও ট্রেন চালানোর আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু পূরণ হয়নি তা।

তাঁদের মূল দাবী এই কঠিন পরিস্থিতিতে দিনে দিনে ভাঙছে আর্থিক কাঠামো, টান পড়ছে রুজি-রুটিতে। এদিকে একে একে অফিস কাছারি খুলে দিচ্ছে, কিন্তু প্রত্যহ নিজের গাড়িতে করে দূরের অফিসে যাওয়ার সামর্থ্য নেই মধ্যবিত্তের। একমাত্র ভরসা রেলপথ বা বাস। সেসব বন্ধ হয়ে পড়ে আছে।

দিন দিন বাড়তে থাকা বিক্ষোভে চিন্তার ভাঁজ রেলের কর্তা ব্যাক্তিদের কপালে। তাঁদের সাফ বক্তব্য হাওড়া, আসানসোল, মালদা কোথাও সমস্যা নেই। একমাত্র সমস্যা হচ্ছে শিয়ালদহ ডিভিশনেই। দিনে দিনে যে হারে যাত্রী বাড়ছে তাতে স্পেশ্যাল ট্রেন দিয়ে সামাল দেওয়া আর সম্ভব হয়ে উঠছে না। উলটে রোজের বিক্ষোভ আন্দোলনে আহত হচ্ছেন রেল কর্মীরাই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন