বলিউডে তারকাদের জনপ্রিয়তার হিসাব হয় মূলত বক্স অফিস, বিজ্ঞাপন কিংবা ফ্যান ফলোয়িং দিয়ে। কিন্তু সম্পত্তি ও ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের হিসাব করলে শাহরুখ খান যে আলাদা জায়গায় দাঁড়িয়ে, তা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। এক বাজার বিশ্লেষকের দাবি, শাহরুখ খানের মোট সম্পদের পরিমাণ ১২,০০০ থেকে ১২,৫০০ কোটি টাকার মধ্যে। তাঁর হিসাব ঠিক হলে সলমন খান, অক্ষয় কুমার এবং আমির খানের সম্পদের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে ‘বলিউডের বাদশা’।
বাজার বিশ্লেষক জেএস খেপার, যিনি ‘জ্যাসি টেক’ নামেও পরিচিত, সিদ্ধার্থ কাননের সঙ্গে এক কথোপকথনে বলিউডের প্রথম সারির অভিনেতাদের সম্পত্তি নিয়ে নিজের হিসাব জানিয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, সলমন খানের সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৩,০০০ থেকে ৩,২০০ কোটি টাকা। আমির খানের ক্ষেত্রে সেই অঙ্ক প্রায় ১,৯০০ থেকে ২,০০০ কোটি টাকা। অক্ষয় কুমারের সম্পত্তি ২,৭০০ থেকে ২,৮০০ কোটি টাকার মধ্যে বলে দাবি করেছেন তিনি।
সেই হিসাবের সঙ্গে শাহরুখের সম্পত্তির তুলনাটাই নজর কেড়েছে। জেএস খেপারের দাবি, শাহরুখের মোট সম্পদের পরিমাণ ১২,০০০ থেকে ১২,৫০০ কোটি টাকা হতে পারে। অর্থাৎ তাঁর হিসাব অনুযায়ী, সালমানের তুলনায় শাহরুখের সম্পত্তি প্রায় চার গুণ, অক্ষয়েরও চার গুণের কাছাকাছি এবং আমিরের তুলনায় তা ছয় গুণেরও বেশি।
তবে এই অঙ্ককে শাহরুখ খানের সরকারি বা অডিটেড সম্পত্তির হিসাব হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটি একজন বাজার বিশ্লেষকের দেওয়া অনুমান। বিভিন্ন সংস্থা ও আর্থিক প্রকাশনায় শাহরুখের সম্পত্তির পরিমাণ নিয়ে আলাদা আলাদা হিসাব রয়েছে। ২০২৫ সালের Hurun India Rich List-এও শাহরুখ খানকে ১২,০০০ কোটির বেশি সম্পত্তি নিয়ে ভারতের অন্যতম ধনী অভিনেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
শাহরুখের সম্পত্তির বড় অংশই শুধু অভিনয় থেকে আসেনি। তাঁর ব্যবসায়িক বিনিয়োগের পরিধি যথেষ্ট বড়। কলকাতা নাইট রাইডার্স (KKR)-এর মালিকানার পাশাপাশি রয়েছে তাঁর প্রযোজনা সংস্থা Red Chillies Entertainment এবং ভিএফএক্স ব্যবসা। মুম্বইয়ের বান্দ্রায় সমুদ্রের ধারে তাঁর বাড়ি ‘মন্নত’-ও তাঁর সম্পত্তির অন্যতম আলোচিত অংশ। এছাড়াও মুম্বইয়ের অন্যান্য সম্পত্তি এবং লন্ডন ও দুবাইয়ে সম্পত্তি থাকার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এখানেই শাহরুখের সঙ্গে অন্য অভিনেতাদের সম্পদের পার্থক্যটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একই প্রজন্মের তিন বড় তারকা—সালমান, আমির এবং অক্ষয়—সিনেমা ও বিজ্ঞাপন থেকে বিপুল অর্থ উপার্জন করলেও শাহরুখের ক্ষেত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি স্পোর্টস ফ্র্যাঞ্চাইজি, প্রযোজনা, ভিএফএক্স এবং রিয়েল এস্টেট-এর মতো একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগ রয়েছে। ফলে তাঁর সম্পদের হিসাব শুধু অভিনেতা হিসেবে পাওয়া পারিশ্রমিক দিয়ে করা যায় না।
জেএস খেপার অবশ্য তিন অভিনেতার আর্থিক কৌশলের মধ্যেও পার্থক্য দেখিয়েছেন। তাঁর মতে, আমির খান অনেকটা ‘টেস্ট’ ক্রিকেটারের মতো—দীর্ঘমেয়াদি এবং পরিমিত পদ্ধতিতে এগোন। অক্ষয় কুমারের ক্ষেত্রে তাঁর তুলনা ‘টি-২০’ ক্রিকেটের সঙ্গে। কারণ, অক্ষয় নিয়মিত একাধিক ছবিতে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করেন। আর সালমান খানের ক্ষেত্রে মুম্বইয়ের রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকে বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
সালমান খানের ক্ষেত্রেও সম্পত্তির বড় অংশ জুড়ে রয়েছে মুম্বইয়ের রিয়েল এস্টেট। বান্দ্রার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্ট ছাড়াও শহরের বিভিন্ন এলাকায় তাঁর সম্পত্তি রয়েছে। পানভেলের বিশাল ফার্মহাউসও তাঁর সম্পত্তির তালিকায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। জেএস খেপারের বক্তব্য, রিয়েল এস্টেট ব্যবসায় সালমানের বিনিয়োগ থেকে উল্লেখযোগ্য আয় হয়।
অন্য দিকে, শাহরুখের আর্থিক সাম্রাজ্যের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল ব্যবসার সঙ্গে বিনোদন জগতের সরাসরি যোগ। KKR-এর মতো ক্রিকেট ফ্র্যাঞ্চাইজিতে মালিকানা, Red Chillies Entertainment-এর মতো প্রযোজনা সংস্থা এবং VFX ব্যবসা—সব মিলিয়ে তাঁর আয়ের উৎস অভিনয়ের বাইরেও বিস্তৃত। এ কারণেই বাজার বিশ্লেষকের হিসাবে শাহরুখের সম্পত্তির অঙ্ক তাঁর সমসাময়িক অভিনেতাদের থেকে এতটা এগিয়ে।
অবশ্য ‘১২ হাজার কোটি’ বা ‘১২,৫০০ কোটি’—যে অঙ্কই বলা হোক না কেন, সেটিকে নিশ্চিত সম্পত্তির পরিমাণ হিসেবে দেখার আগে সতর্ক থাকা জরুরি। তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব, বিনিয়োগ ও সংস্থার মূল্যায়ন সবসময় প্রকাশ্যে সম্পূর্ণভাবে পাওয়া যায় না। ফলে বাজার বিশ্লেষকদের হিসাব মূলত আনুমানিক।
তবু একটি বিষয় স্পষ্ট—শাহরুখ খানের ‘বাদশা’ পরিচয় এখন শুধু সিনেমার পর্দায় আটকে নেই। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসা ও বিনিয়োগে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান তৈরি করেই তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ এতটা বেড়েছে বলে বিশ্লেষকদের দাবি। আর সেই হিসাবই ফের প্রশ্ন তুলছে—বলিউডের অন্য ‘খান’দের তুলনায় সত্যিই কি অনেকটা এগিয়ে শাহরুখ? জেএস খেপারের দেওয়া অঙ্ক বলছে, ব্যবধানটা যথেষ্ট বড়।



