জম্মু-কাশ্মীরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে ফের সাফল্যের দাবি নিরাপত্তা বাহিনীর। মঙ্গলবার রাতে বুদগাম জেলার ইউসমার্গ সংলগ্ন কোরাগ এলাকায় সেনা, পুলিশ ও সিআরপিএফের যৌথ অভিযানে গুলির লড়াইয়ে এক জঙ্গি নিহত হয়েছে। পুলিশের দাবি, মৃত ব্যক্তি লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ কমান্ডার ফৌজি মুসা। দীর্ঘদিন ধরেই তার খোঁজ চলছিল বলে জানিয়েছে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ।
নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা গিয়েছে, ‘অপারেশন কোরাগ’-এর সময় এলাকায় কয়েকজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এগিয়ে যায় যৌথ বাহিনী। সন্দেহভাজনদের চ্যালেঞ্জ করা হলে পাল্টা গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে। এরপরই শুরু হয় এনকাউন্টার। নিরাপত্তারক্ষীদের পাল্টা গুলিতে ফৌজি মুসা নিহত হয়েছে বলে দাবি সেনার।
ভারতীয় সেনার চিনার কোর (Chinar Corps) মঙ্গলবার রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অভিযানের কথা জানায়। ইউসমার্গের কাছের কোরাগ এলাকায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ এবং সেন্ট্রাল রিজ়ার্ভ পুলিশ ফোর্স (CRPF) যৌথভাবে অভিযান চালায়। সেই সংঘর্ষেই লস্কর-ই-তৈবার এক সদস্য নিহত হয়েছে বলে সেনার তরফে জানানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, ফৌজি মুসার বিরুদ্ধে জম্মু-কাশ্মীরে একাধিক হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল। বেশ কিছুদিন ধরেই তার সন্ধানে অভিযান চালাচ্ছিল নিরাপত্তা বাহিনী। বুদগামের পাহাড়ি এলাকা এবং আশপাশে তার গতিবিধি নিয়ে নজরদারি চলছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এর আগেও ইউসমার্গ এলাকায় মুসাকে ঘিরে অভিযান চালানো হয়েছিল। গত ৫ সেপ্টেম্বর ওই পাহাড়ি এলাকায় সেনা ও যৌথ বাহিনী অভিযান চালায়। সেই অভিযানের সময় মুসা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ইয়াসির নিহত হয়েছিল বলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানা গিয়েছিল।
এবার কোরাগ এলাকায় ফের অভিযানে তার অবস্থানের সন্ধান মেলে। মঙ্গলবার রাতের সংঘর্ষের পর নিরাপত্তা বাহিনী দাবি করেছে, সেই অভিযানে মুসার মৃত্যু হয়েছে।
এরই মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি জেলায় জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে আরও একটি অভিযান চালানো হয়েছে। রাজৌরির কোট চারওয়াল এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, তারা লস্কর-ই-তৈবার সঙ্গে যুক্ত জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি রাজৌরি-রিয়াসি এবং পির পাঞ্জাল এলাকায় তাদের চলাচলে সাহায্য করেছিল।
এই গ্রেফতারির পাশাপাশি একই দিনে উধমপুর জেলার একটি জঙ্গলেও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের সংঘর্ষ হয়। সেই এনকাউন্টারে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানা যায়।
ফলে পরপর অভিযানে জম্মু-কাশ্মীরের একাধিক এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে। বুদগামের কোরাগে ফৌজি মুসার মৃত্যু সেই ধারাবাহিক অভিযানেরই গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে দাবি করা হয়েছে।
তবে মুসার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তার সংগঠনগত ভূমিকা সম্পর্কে পুলিশের বক্তব্যই বর্তমানে প্রধান ভিত্তি। এই সংক্রান্ত মামলাগুলির বিস্তারিত আইনি অবস্থার তথ্য দেওয়া হয়নি।



