এসআরএফটিআইয়ে দিনভর বিক্ষোভ, তিনটি FIR-এর পর তদন্তে পুলিশ; ‘কাউকে ছাড়া হবে না’, বললেন মন্ত্রী

রবিবারের সংঘর্ষের পর সোমবার SRFTI ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ চলে। তিনটি পৃথক FIR-এর ভিত্তিতে তদন্ত করছে পুলিশ। এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট (SRFTI)-এ রবিবারের সংঘর্ষের পর সোমবারও উত্তেজনার আবহ বজায় থাকল। দিনভর ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ হয়েছে। অন্যদিকে ঘটনার তদন্তে নেমেছে কলকাতা পুলিশ। ইতিমধ্যেই পঞ্চসায়র থানায় তিনটি পৃথক FIR দায়ের হয়েছে—একটি পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলা, একটি SRFTI-এর ডিনের অভিযোগের ভিত্তিতে এবং অন্যটি অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত (ABGP)-এর অভিযোগে।

রবিবার SRFTI-এর ক্যাম্পাসে ABGP-এর একটি অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের একাংশ আপত্তি জানানোর পর বচসা থেকে সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঘটনার পর দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগ তুলেছে। কয়েকজন পড়ুয়া, আয়োজক এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে SRFTI-এর বাইরে পুলিশ মোতায়েন ছিল। একইসঙ্গে পড়ুয়াদের একাংশ নীরব প্রতিবাদে অংশ নেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। সোমবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়নি বলে পুলিশ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল SRFTI-এর মূল থিয়েটারে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে। ABGP (অখিল ভারতীয় গ্রাহক পঞ্চায়েত)-এর দাবি, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই তারা অডিটোরিয়াম ভাড়া করে অনুষ্ঠান করছিল। সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠান চলাকালীন পড়ুয়াদের একাংশ সেখানে এসে আপত্তি জানান এবং পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে পড়ুয়াদের অভিযোগ, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পাসে বাইরের একটি সংগঠনের অনুষ্ঠান আয়োজন এবং বহিরাগতদের উপস্থিতি নিয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছিলেন। তাঁদের দাবি, প্রতিবাদ করার পর তাঁদের উপর হামলা হয়। পড়ুয়াদের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে সংঘর্ষের সময় কয়েকজন শিক্ষকও আহত হন। এই অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করতেই পুলিশ তদন্ত করছে।

ঘটনা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। ABGP-এর পক্ষ থেকে পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া এবং ব্যানার ছেঁড়ার অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে পড়ুয়াদের পক্ষ থেকে সংগঠনের সদস্যদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযোগগুলির কোনওটিকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এদিকে সোমবার ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যে কোনও ধরনের হিংসার নিন্দা করে তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত পুলিশ করছে এবং ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড়া হবে না।

মন্ত্রী আরও দাবি করেন, সংঘর্ষের সময় স্বামী বিবেকানন্দ ও ভারতমাতার ছবিতে লাথি মারার দৃশ্য তিনি দেখেছেন। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ধরনের আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। তবে ওই ছবিগুলি কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ঘটনার জন্য ঠিক কারা দায়ী, তা তদন্তের বিষয়।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক মহলের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (CUTA) এবং উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত শিক্ষক সংগঠনের পক্ষ থেকে ক্যাম্পাসে হিংসার নিন্দা করা হয়েছে।

তবে সোমবার পরিস্থিতি রবিবারের তুলনায় নিয়ন্ত্রণে ছিল। পুলিশি উপস্থিতির মধ্যেই পড়ুয়ারা ক্লাস করেছেন এবং নতুন করে কোনও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

এখন নজর পুলিশের তদন্তের দিকে। তিনটি FIR-এর ভিত্তিতে অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কার বিরুদ্ধে কী অভিযোগের প্রমাণ মিলছে, সংঘর্ষের সময়ে ঠিক কী ঘটেছিল এবং ঘটনায় কারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন—তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সেই ছবিই স্পষ্ট হওয়ার কথা।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন