দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (DUSU) নির্বাচনে ফের দাপট দেখাল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদের মধ্যে তিনটিতেই জয় পেয়েছে ABVP। সভাপতি, সচিব এবং যুগ্ম সচিব—এই তিন পদই গিয়েছে তাদের প্রার্থীদের দখলে। একমাত্র সহ-সভাপতি পদে জয় পেয়েছেন নির্দল প্রার্থী দীপাংশু শোকিন। ফলে কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন NSUI-ও এ বার কোনও কেন্দ্রীয় পদে জয় পায়নি।
সভাপতি পদে ABVP-র যশ ডবাস ২৪ হাজার ৫৭৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী NSUI-র বিজয় শংকর মীনা পেয়েছেন ২২ হাজার ৫২৩ ভোট। অর্থাৎ প্রায় দুই হাজার ভোটের ব্যবধানে এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি ধরে রাখল ABVP। বামপন্থী জোটের প্রার্থী অনন্যা রাতুরি তৃতীয় স্থানে ছিলেন।
সহ-সভাপতি পদে অবশ্য ABVP বা NSUI—কেউই জয় পায়নি। নির্দল প্রার্থী দীপাংশু শোকিন ৩০ হাজারেরও বেশি ভোট পেয়ে এই পদে নির্বাচিত হয়েছেন। ABVP-র ইশু মৌর্য এবং NSUI-র বীর ছত্রথকে পিছনে ফেলে তাঁর এই জয় DUSU নির্বাচনের অন্যতম উল্লেখযোগ্য ফলাফল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে শোকিনের পূর্ববর্তী NSUI-যোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সচিব পদে জয় পেয়েছেন ABVP-র রিয়া ছাওয়ড়ি। তিনি NSUI-র নম্রতা চৌধুরীকে হারিয়েছেন। যুগ্ম সচিব পদেও ABVP-র লক্ষ্য রাজ সিং জয়ী হয়েছেন। ফলে চারটি কেন্দ্রীয় পদের মধ্যে তিনটিই ABVP-র হাতে গিয়েছে।
এ বারের নির্বাচনে লড়াই নিয়ে আগেই যথেষ্ট আগ্রহ ছিল। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্রাবাস, পরিকাঠামো, নিরাপত্তা, শিক্ষাব্যবস্থা এবং ছাত্রকল্যাণের মতো বিভিন্ন বিষয় প্রচারে উঠে এসেছিল। NSUI-ও তাদের ইস্তাহারে ছাত্রাবাসের পরিকাঠামো, সস্তা মেট্রো পাস, লাইব্রেরি ও ক্যান্টিন-সহ একাধিক বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছিল।
এ বার DUSU নির্বাচনে ভোটদানের হার ছিল ৪০.৪৬ শতাংশ, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি। ফলে ভোটের ফলকে শুধু কোনও একটি জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুর প্রতিফলন হিসেবে দেখার বদলে ক্যাম্পাসের স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থী এবং ছাত্রসংগঠনগুলির সাংগঠনিক শক্তিকেও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ABVP-র শক্তিশালী উপস্থিতি রয়েছে। ২০২৬-এর ফলাফলেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় থাকল। তবে একই সঙ্গে সহ-সভাপতি পদে নির্দল প্রার্থীর জয় দেখিয়ে দিল, চারটি কেন্দ্রীয় পদে ভোটের সমীকরণ একরকম ছিল না।
ফলে DUSU নির্বাচনের এবারের ফলাফলে একদিকে ABVP তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ ধরে রাখল, অন্যদিকে NSUI কোনও কেন্দ্রীয় পদে জয় পেল না এবং নির্দল প্রার্থী একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা করে নিলেন। এই ফল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতিতে সংগঠনগুলির বর্তমান অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে।



