পুজোর আগেই দমকলে বড় নিয়োগ! ২৫০০ কর্মী, ৩৫০ ড্রাইভার, জানুন বিস্তারিত

দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের দমকল দফতরে প্রায় ২৫০০ স্থায়ী কর্মী ও ৩৫০ ড্রাইভার নিয়োগের পরিকল্পনা। একইসঙ্গে ২৫০ নতুন ফায়ার সার্ভিস গাড়ি নামানোর প্রস্তুতি চলছে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের দমকল দফতরে বড়সড় নিয়োগের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। কর্মী সঙ্কট সামাল দিতে প্রায় ২,৫০০টি স্থায়ী পদে নিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী (Koushik Chowdhury)। একইসঙ্গে নতুন ফায়ার সার্ভিস ভেহিকেল নামানোর পাশাপাশি প্রায় ৩৫০ জন ড্রাইভার নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে। পুজোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এর মধ্যেই রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে বিশেষ প্রস্তুতি।

রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ১৩০টি ফায়ার স্টেশন রয়েছে এবং দমকল ও জরুরি পরিষেবা বিভাগে ৫,৫০০-র বেশি কর্মী কাজ করেন। আগুন নেভানোর পাশাপাশি উদ্ধারকাজ, অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি কার্যকর করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিও দফতরের অন্যতম দায়িত্ব।

এবারের দুর্গাপুজোয় সেই দায়িত্ব আরও বড় হতে চলেছে। রাজ্যজুড়ে প্রায় ৬০ হাজার পুজোকে ঘিরে অগ্নিনিরাপত্তার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। কলকাতাতেও প্রায় ৯৮৬টি পুজোর আবেদন জমা পড়েছে বলে দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে। পুজোর আগে মণ্ডপগুলির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে বুধবার থেকেই পরিদর্শন শুরু করেছেন দমকল আধিকারিকরা।

শুধু একবার মণ্ডপ দেখে দায়িত্ব শেষ হচ্ছে না। মণ্ডপ তৈরির বিভিন্ন পর্যায়ে একাধিক দফায় পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে। পুজোর মরশুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত দমকলকর্মীদের ছুটিও বাতিল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূল লক্ষ্য, কোনও মণ্ডপে অগ্নি-নিরাপত্তার ত্রুটি থাকলে তা পুজো শুরুর আগেই চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরোনোর জন্য পর্যাপ্ত দরজা রয়েছে কি না, ভিড়ের মধ্যে মানুষের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কি না—এসবই খতিয়ে দেখবেন দমকল আধিকারিকরা। প্যান্ডেল তৈরিতে কী ধরনের কাপড় বা অন্যান্য দাহ্য সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে, সেদিকেও বিশেষ নজর থাকবে।

অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে প্রথম কয়েক মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই পুজো উদ্যোক্তাদেরও প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। দমকল কর্তাদের বক্তব্য, উদ্যোক্তারা প্রশিক্ষিত থাকলে ছোটখাটো আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব এবং বড় বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমানো যায়।

কলকাতার পাশাপাশি জেলার বড় পুজোগুলিও থাকছে নজরদারির আওতায়। যেসব মণ্ডপে দর্শনার্থীর চাপ বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, সেখানে অগ্নিনিরাপত্তার পরিকাঠামো বিশেষভাবে পরীক্ষা করা হবে। একইসঙ্গে পুজোর আগে শহরের শপিং মল এবং বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও বিশেষ ফায়ার-সেফটি অডিট চালানো হচ্ছে।

দমকলের পরিকাঠামো শক্তিশালী করতে নতুন গাড়ি নামানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রায় ২৫০টি নতুন ফায়ার সার্ভিস ভেহিকেল বিভিন্ন জায়গায় মোতায়েন করার প্রস্তুতি চলছে। সরু রাস্তা বা ঘিঞ্জি এলাকায় পৌঁছনোর জন্য ছোট আকারের গাড়ি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বড় গাড়ি ব্যবহার করা হবে। কলকাতার পাশাপাশি বিভিন্ন জেলাতেও নতুন গাড়ি পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

নিয়োগের ক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা সামনে এসেছে। দমকল দফতরে প্রায় ২,৫০০টি স্থায়ী পদে লোক নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। যত দ্রুত সম্ভব নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে নতুন কর্মীদের কাজে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে নিয়োগের পূর্ণাঙ্গ বিজ্ঞপ্তি, যোগ্যতা, পরীক্ষা ও আবেদনের সময়সীমা সংক্রান্ত চূড়ান্ত তথ্য সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই নিশ্চিত হবে।

এর পাশাপাশি নতুন ফায়ার সার্ভিস গাড়ি চালানোর জন্য প্রায় ৩৫০ জন ড্রাইভার নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ শুধু কর্মী সংখ্যা বাড়ানো নয়, একইসঙ্গে দমকলের যানবাহন ব্যবস্থাকেও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দমকল দফতরের সরকারি পরিষেবা ব্যবস্থায় ইতিমধ্যেই Fire Safety Certificate, Fire Safety Recommendation এবং Fire License-এর মতো একাধিক পরিষেবা চালু রয়েছে। নতুন কর্মী, যানবাহন এবং পরিদর্শন ব্যবস্থা বাড়লে পুজোর মরশুমে অগ্নিনিরাপত্তা নজরদারির পরিধি আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

এবারের পুজোয় ভিড় সামলাতে যেমন স্বেচ্ছাসেবকদের দেখা যায়, তেমনই অগ্নিনিরাপত্তার জন্য আলাদা প্রশিক্ষিত ভলান্টিয়ার রাখার আবেদনও করা হয়েছে। কারণ পুজোর মণ্ডপে বিপুল মানুষের সমাগমের সময় আগুন বা অন্য কোনও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত স্থানীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা থাকলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।

সব মিলিয়ে, পুজোর আগে দমকলের প্রস্তুতিতে একসঙ্গে তিনটি দিককে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—কর্মী বাড়ানো, যানবাহন বাড়ানো এবং মণ্ডপগুলিতে নজরদারি জোরদার করা। নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হলে দীর্ঘদিনের কর্মী সঙ্কট কতটা কমে এবং নতুন পরিকাঠামো এবারের পুজোয় অগ্নিনিরাপত্তাকে কতটা শক্তিশালী করে, এখন নজর সেদিকেই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন