উৎসবের মরশুমে চিনির দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে পাইকারি বাজারে সর্বোচ্চ দর নির্ধারণ করল রাজ্য সরকার। পোস্তা বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার পর কেজি প্রতি সর্বোচ্চ ৫০ টাকা দরে চিনি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজ্য কৃষি বিপণন দপ্তরের দাবি, এর প্রভাব খুচরো বাজারে পড়তে শুরু করলে কয়েক দিনের মধ্যেই দাম ৫৩–৫৫ টাকার মধ্যে নামতে পারে।
বর্তমানে খুচরো বাজারে চিনির দাম ৭০ টাকা কেজির আশপাশে ঘোরাফেরা করছে বলে দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে। পুজো-সহ একাধিক উৎসব সামনে থাকায় এই দামে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি মিষ্টি প্রস্তুতকারীদের উপরও চাপ তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতেই বাজারে হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
রাজ্যের কৃষি বিপণনমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh) জানিয়েছেন, গত এক মাস ধরে দেশ ও রাজ্যে চিনির দাম বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছিল। সেই পরিস্থিতিতে পোস্তা বাজার মার্চেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বৈঠক করে পাইকারি দরের সর্বোচ্চ সীমা ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই পাইকারি দর অন্তত আগামী তিন মাস অপরিবর্তিত রাখার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ পুজো এবং উৎসবের মরশুমে চিনির দামে যাতে ফের বড়সড় ওঠানামা না হয়, সেদিকেই নজর রাখা হচ্ছে।
চিনির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ব্যবসায়ীদের জন্য লজিস্টিক সহায়তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। ডানকুনি রেক পয়েন্ট থেকে ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সরকারি রেগুলেটেড মার্কেট কমিটির গোডাউনগুলিতে চিনি খালাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এরপর সেই চিনি রেগুলেটেড মার্কেট কমিটি এবং সুফল বাংলা স্টলের মাধ্যমে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। সরকারের বক্তব্য, সরবরাহ ব্যবস্থাকে মসৃণ রাখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
চিনির দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবেও আবহাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। কৃষি বিপণন দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং কর্ণাটকে অতিরিক্ত বৃষ্টির প্রভাব চিনির বাজারে পড়েছে। তবে এর পাশাপাশি বাজারে সরবরাহ ও দামের গতিবিধির উপর নজর রাখছে প্রশাসন।
এই সিদ্ধান্তের আগে ৩, ৫ এবং ১১ সেপ্টেম্বর—তিন দফায় পোস্তা বাজারের ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে সরকারি আধিকারিকদের বৈঠক হয়েছে। মূল লক্ষ্য ছিল বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ বজায় রাখা এবং অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো।
কৃষি বিপণন দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, সিদ্ধান্তের সুফল আগামী সাত দিনের মধ্যে সাধারণ ক্রেতারা পেতে পারেন। পাইকারি ও খুচরো বাজারে দামের গতিবিধি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে রাজ্য সরকার। কোথাও কৃত্রিমভাবে দাম বাড়ানো হচ্ছে কি না, সেটিও নজরে রাখা হবে।
শুধু চিনি নয়, পেঁয়াজের দাম নিয়েও বাজারে নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার খুচরো বাজারে পেঁয়াজের দাম ৬৫–৭০ টাকা কেজি পর্যন্ত ছিল বলে জানানো হয়েছে। দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের নজরদারি চালানোর কথা জানিয়েছে সরকার।
পেঁয়াজের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য রাজ্যে ১০টি কোল্ড স্টোরেজ তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। উদ্দেশ্য, পেঁয়াজ সংরক্ষণের পরিকাঠামো বাড়িয়ে ভবিষ্যতে সরবরাহ ও দামের উপর চাপ কমানো।
অর্থাৎ পুজোর বাজারে আপাতত সরকারের নজরে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য—চিনি ও পেঁয়াজ। চিনির ক্ষেত্রে পাইকারি দর ৫০ টাকায় আটকে রেখে খুচরো বাজারে দাম কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, আর পেঁয়াজের ক্ষেত্রে নজরদারির পাশাপাশি সংরক্ষণ পরিকাঠামো বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।



