রেজিনগরে উপনির্বাচনের আগেই জোটের ডাক হুমায়ুনের, নিজের গড়েই কি হারার আশঙ্কা?

রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে বিরোধী ঐক্যের বার্তা হুমায়ুন কবীরের। বিজেপিকে রুখতে তৃণমূল, কংগ্রেস, বাম ও আইএসএফকে একসঙ্গে লড়ার আহ্বান, পাল্টা অবস্থান কংগ্রেসের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচন ঘিরে এবার সরাসরি বিরোধী ঐক্যের ডাক দিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। নিজের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত রেজিনগরে বিজেপিকে ঠেকাতে তৃণমূল, কংগ্রেস, বাম ও আইএসএফকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তাঁর এই অবস্থান সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—উপনির্বাচনের আগে কি নিজের আসন নিয়ে চাপ অনুভব করছেন হুমায়ুন?

মঙ্গলবার নিজের দলের কার্যালয়ে সাংবাদিক বৈঠক করে হুমায়ুন বলেন, বিরোধী দলগুলিকে নিজেদের ‘ইগো’ দূরে সরিয়ে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে। তাঁর দাবি, বিধানসভায় যে ৮৬ জন বিরোধী বিধায়ক রয়েছেন, তাঁরা যদি এককাট্টা হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করেন, তাহলে ২০২৬ সালেও বিজেপিকে রোখা সম্ভব।

হুমায়ুনের বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee), সুজন চক্রবর্তী (Sujan Chakraborty), নওশাদ সিদ্দিকী (Naushad Siddiqui) এবং কংগ্রেস নেতৃত্বকে নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। বাংলার স্বার্থে বিরোধীদের একজোট হওয়া প্রয়োজন বলেই দাবি করেছেন তিনি।

রেজিনগর নিয়ে জোটের আলোচনা অবশ্য একেবারে নতুন নয়। এর আগে রাজ্যের মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীও রেজিনগর আসনটি কংগ্রেসকে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপিকে মোকাবিলার জন্য কংগ্রেসকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছিলেন তিনি।

তবে কংগ্রেসের অবস্থান এখনও স্পষ্ট। দলের প্রবীণ নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী (Adhir Ranjan Chowdhury) জানিয়েছেন, রেজিনগরে কংগ্রেস নিজেদের শক্তিতেই লড়াই করবে। ফলে হুমায়ুনের জোটের প্রস্তাব বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় থাকছেই।

রেজিনগর আসনটি হুমায়ুনের রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর নিজের তৈরি আম জনতা উন্নয়ন পার্টির হয়ে রেজিনগর ও নওদা—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন তিনি। পরে নিয়ম অনুযায়ী একটি আসন ছেড়ে দেন হুমায়ুন।

রেজিনগরে তাঁর জয়ের ব্যবধানও ছিল উল্লেখযোগ্য। ১ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩৬ ভোট পেয়েছিলেন তিনি। এবার সেই কেন্দ্রের উপনির্বাচনে নিজের ছেলেকে প্রার্থী করার কথা ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন হুমায়ুন। ফলে নিজের জেতা আসন ধরে রাখাই এখন তাঁর কাছে বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।

আর সেখানেই তাঁর সাম্প্রতিক জোট-বার্তা নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে। যে রেজিনগর নিয়ে এতদিন আত্মবিশ্বাসী ছিলেন হুমায়ুন, উপনির্বাচনের আগে সেই আসনেই কেন অন্য বিরোধী দলগুলিকে একসঙ্গে লড়াইয়ের আহ্বান জানাচ্ছেন—এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে। ফল প্রকাশ হবে ৯ অক্টোবর। রেজিনগরের ভোটের অঙ্কও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ—প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রে মুসলিম ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬৮ শতাংশ, হিন্দু ভোটার প্রায় ২৮ শতাংশ। এই সমীকরণের মধ্যেই হুমায়ুনের জোটের ডাক কতটা ভোটের অঙ্ক বদলায়, এখন সেটাই দেখার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন