জেলে কেমন আছেন ইমরান খান? বাবার স্বাস্থ্য নিয়ে বড় আশঙ্কা দুই ছেলের, উঠল গুরুতর অভিযোগ

জেলে বন্দি ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই ছেলে কাসিম ও সুলেমান। চিকিৎসা, হাসপাতাল স্থানান্তর এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে পাকিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে উঠেছে অভিযোগ।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের (Imran Khan) শারীরিক অবস্থা নিয়ে ফের উদ্বেগ বাড়ল। জেলে বন্দি ৭৩ বছরের বাবাকে নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁর দুই ছেলে কাসিম খান (Kasim Khan) ও সুলেমান খান (Sulaiman Khan)। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ইমরানের শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে তাঁরা পর্যাপ্ত তথ্য পাচ্ছেন না এবং তাঁর চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে পাকিস্তান সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পুরোপুরি মানছে না।

কাসিম ও সুলেমানের বক্তব্য, তাঁদের বাবার স্বাস্থ্য ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। কাসিমের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে জেলে ইমরানের বেঁচে থাকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে এই আশঙ্কাগুলি ইমরানের পরিবারের অভিযোগ—পাকিস্তান সরকার এই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, একাধিক মেডিক্যাল পরীক্ষায় তাঁকে সুস্থ বলে পাওয়া গিয়েছে।

ইমরানের চিকিৎসা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টও হস্তক্ষেপ করেছে। ১৮ অগস্ট আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, তাঁকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেল থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা ও মেডিক্যাল পরীক্ষা করাতে হবে। তাঁর চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠনের কথাও বলা হয়েছিল।

আদালতের নির্দেশের পর ইমরানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁর পরীক্ষা করেন এবং পরে তাঁকে ফের আদিয়ালা জেলে পাঠানো হয়। পাকিস্তান সরকারের বক্তব্য, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল তাঁকে পরীক্ষা করে ‘মেডিক্যালি ফিট’ বলে জানিয়েছে।

এই সরকারি বক্তব্য নিয়েই আপত্তি তুলেছে ইমরানের পরিবার ও তাঁর দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (PTI)। তাঁদের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী চিকিৎসা ব্যবস্থার সব শর্ত পূরণ করা হয়নি। এমনকি ইমরানের চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকার নিয়েও সরকারের সঙ্গে তাঁদের সংঘাত তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি PTI আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে ফের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে।

ইমরানের শারীরিক সমস্যা নিয়ে উদ্বেগের অন্যতম কারণ তাঁর চোখের সমস্যা। তাঁর আইনজীবী ও দলীয় সূত্র আগে দাবি করেছিল, জেলে থাকার সময় তাঁর ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি উল্লেখযোগ্য ভাবে কমেছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, চিকিৎসার পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং একাধিক মেডিক্যাল পরীক্ষা করা হয়েছে। ফলে তাঁর প্রকৃত শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরিবার ও সরকারের বক্তব্যে স্পষ্ট ফারাক রয়েছে।

ইমরানের দুই ছেলে দীর্ঘদিন ধরেই বাবার সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়ে আসছেন। তাঁদের বক্তব্য, মাসের পর মাস তাঁরা বাবার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেননি। এ কারণেই সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। আদালত সাপ্তাহিক পারিবারিক সাক্ষাৎ এবং তাঁর ছেলেদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল।

ইমরান খান ২০২৩ সালের অগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি-সহ একাধিক মামলা ও সাজা রয়েছে। তিনি এবং তাঁর দল অবশ্য অভিযোগগুলিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে এসেছে।

ফলে ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে বিতর্ক এখন আর শুধু তাঁর পরিবারের অভিযোগে সীমাবদ্ধ নেই; বিষয়টি পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছে। একদিকে সরকার বলছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে পরিবার ও PTI-র দাবি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করা হচ্ছে না। এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই ইমরানের প্রকৃত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হচ্ছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন