পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) অভিযোগ করেছেন, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত তিনি তাঁর বইয়ের রয়্যালটির টাকা পাননি। মঙ্গলবার একটি ফেসবুক লাইভে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে বইয়ের রয়্যালটি থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত খরচ চলত, কিন্তু এ বছর সেই অর্থও হাতে আসেনি। তাঁর অভিযোগ, এর নেপথ্যে রাজনৈতিক চাপ থাকতে পারে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি কখনও মুখ্যমন্ত্রীর বেতন বা পেনশন নেননি। তাঁর দাবি, বইয়ের রয়্যালটি এবং ছবি বিক্রির অর্থই ছিল ব্যক্তিগত আয়ের প্রধান উৎস। ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, বইমেলায় পাঠকরা তাঁর বই কিনেছেন, তবু এখনও পর্যন্ত রয়্যালটির টাকা তিনি পাননি। এই ঘটনায় রাজনৈতিক প্রভাব থাকতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
তবে এই অভিযোগের পর ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে তাঁর বইয়ের প্রকাশনার সঙ্গে যুক্ত দুই সংস্থা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক বই প্রকাশ করেছে দে’জ পাবলিশিং (Dey’s Publishing) এবং বি বুকস (B Books)।
দে’জ পাবলিশিং-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রয়্যালটি দেওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি রয়েছে। সংস্থার দাবি, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী জুন ও জুলাই মাসের বিক্রির হিসাব চূড়ান্ত করে আগস্ট মাসেই লেখকদের রয়্যালটির অর্থ পাঠানো হয়। সেই নিয়ম মেনেই এবারও অর্থ পাঠানো হবে।
অন্যদিকে বি বুকস জানিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রয়্যালটি সংক্রান্ত বিষয় যাঁরা দেখতেন, তাঁদের সঙ্গে বর্তমানে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। সংস্থার দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের ফোন নম্বর পরিবর্তিত হওয়ায় অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হয়েছে। যোগাযোগ পুনঃস্থাপিত হলেই রয়্যালটির অর্থ দেওয়া হবে বলে প্রকাশনা সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ফলে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ এবং প্রকাশকদের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য সামনে এসেছে। একদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাজনৈতিক কারণের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, অন্যদিকে প্রকাশকরা প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত কারণের কথা তুলে ধরেছেন।
এই মুহূর্তে রয়্যালটির অর্থ কবে দেওয়া হবে বা বিষয়টি কীভাবে মিটবে, সে বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। তবে দুই প্রকাশনা সংস্থাই জানিয়েছে, নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই বকেয়া রয়্যালটির অর্থ মিটিয়ে দেওয়া হবে।



