ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর দুই গুরুত্বপূর্ণ শাখায় নেতৃত্বের পরিবর্তন হল। ভারতীয় নৌসেনা (Indian Navy) এবং ভারতীয় বিমান বাহিনী (Indian Air Force)-তে নতুন দায়িত্ব পেলেন দুই শীর্ষ আধিকারিক। ভাইস অ্যাডমিরাল এএন প্রমোদ (Vice Admiral A.N. Pramod) নৌসেনার নতুন ডেপুটি চিফ অব নাভাল স্টাফ (Deputy Chief of Naval Staff – DCNS) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। অন্যদিকে, এয়ার মার্শাল তেজপাল সিং (Air Marshal Tejpal Singh) নতুন ডেপুটি চিফ অব দ্য এয়ার স্টাফ (Deputy Chief of the Air Staff – DCAS) হিসেবে দায়িত্বভার সামলাবেন।
নৌসেনায় এই পরিবর্তন হয়েছে ভাইস অ্যাডমিরাল তরুণ সোবতী (Vice Admiral Tarun Sobti)-র অবসরের পর। তিনি ৩১ জুলাই অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর জায়গাতেই দায়িত্ব নিলেন ভাইস অ্যাডমিরাল এএন প্রমোদ।
১৯৯০ সালের ১ জুলাই ভারতীয় নৌসেনায় কমিশনপ্রাপ্ত হন এএন প্রমোদ। তিন দশকেরও বেশি সময়ের কর্মজীবনে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান ও কৌশলগত দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতার তালিকায় রয়েছে অপারেশন বিজয় (Operation Vijay), অপারেশন পরাক্রম (Operation Parakram), অপারেশন সিঁদুর (Operation Sindoor) এবং গালওয়ান (Galwan) সংঘাতের সময় পরিচালিত অপারেশন স্নো লেপার্ড (Operation Snow Leopard)-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
দেশের প্রতি তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ভাইস অ্যাডমিরাল এএন প্রমোদ ২০২৪ সালে বিশিষ্ট সেবা মেডেল (Vishisht Seva Medal) এবং ২০২৫ সালে যুদ্ধ সেবা মেডেল (Yudh Seva Medal)-এ সম্মানিত হন।
অন্যদিকে, ১ অগস্ট নতুন ডেপুটি চিফ অব দ্য এয়ার স্টাফ হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এয়ার মার্শাল তেজপাল সিং। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমেই তিনি জাতীয় যুদ্ধ স্মারক (National War Memorial)-এ গিয়ে দেশের বীর শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
এয়ার মার্শাল তেজপাল সিং ১৯৯০ সালের ১৬ জুন ফাইটার পাইলট হিসেবে ভারতীয় বিমান বাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত হন। কর্মজীবনে তিনি ৩,৫০০ ঘণ্টারও বেশি উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধবিমান পরিচালনার দক্ষতার জন্য পরিচিত।
দীর্ঘ সামরিক জীবনে তাঁর কৃতিত্বের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১১ সালে বায়ু সেনা মেডেল (Vayu Sena Medal) এবং ২০২১ সালে অতি বিশিষ্ট সেবা মেডেল (Ati Vishisht Seva Medal) প্রদান করা হয়।
ভারতীয় নৌসেনা ও বিমান বাহিনীর এই নেতৃত্ব পরিবর্তন এমন এক সময়ে হল, যখন দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সক্ষম করে তোলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অভিজ্ঞ দুই আধিকারিকের নেতৃত্বে কৌশলগত পরিকল্পনা, যৌথ সামরিক প্রস্তুতি এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে বলেই প্রতিরক্ষা মহলের আশা।



