মোবাইল কেড়ে নিলেই রাগে ফেটে পড়ছে সন্তান? মনোবিদদের মতে এই ৩ অভ্যাস বদলে দিতে পারে পরিস্থিতি

শিশুর হাতে স্মার্টফোন এখন প্রায় নিত্যসঙ্গী। কিন্তু মোবাইল সরিয়ে নিতেই যদি কান্না, রাগ বা জিনিসপত্র ভাঙচুর শুরু হয়, তাহলে শুধু বকাঝকা নয়, অভিভাবকদেরও বদলাতে হবে কিছু অভ্যাস। কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা, জেনে নিন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শিশুর মোবাইল আসক্তি এখন অধিকাংশ পরিবারেরই বড় উদ্বেগের কারণ। অনেক বাবা-মায়েরই অভিযোগ, মোবাইল ফোন ছাড়া সন্তান খেতে চায় না, পড়তে বসে না, এমনকি শান্তও থাকে না। আর ফোন কেড়ে নিলেই শুরু হয় চিৎকার, জেদ, কান্না কিংবা রাগের বিস্ফোরণ। মনোবিদদের মতে, এই আচরণ শুধুমাত্র শিশুর দোষ নয়; এর পিছনে পারিবারিক অভ্যাস ও দৈনন্দিন পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর কাছ থেকে হঠাৎ মোবাইল সরিয়ে নিলে তার মনে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়। সেই শূন্যতা যদি অন্য কোনও ইতিবাচক অভিজ্ঞতা দিয়ে পূরণ না করা যায়, তাহলে শিশুর মধ্যে বিরক্তি, একগুঁয়েমি বা আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। তাই মোবাইলের বিকল্প হিসেবে আকর্ষণীয় ও অর্থবহ কার্যকলাপ তৈরি করাই সবচেয়ে জরুরি।

১. প্রতিদিন নির্দিষ্ট ‘ফ্যামিলি টাইম’ রাখুন

মনোবিদদের মতে, বাবা-মায়ের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটানো শিশুর মানসিক বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দিনের অন্তত কিছুটা সময় শুধুমাত্র সন্তানের জন্য রাখুন। একসঙ্গে গল্প করুন, খেলুন বা অন্তত একটি খাবার একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে শিশুর মানসিক নিরাপত্তাবোধ বাড়ে এবং স্ক্রিনের উপর নির্ভরশীলতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।

২. বইয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করান

ছোটবেলা থেকেই গল্পের বই, ছবির বই বা রঙিন শিক্ষামূলক বইয়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিন। বই পড়ার অভ্যাস শিশুর কল্পনাশক্তি, মনোযোগ এবং ভাষাগত দক্ষতা বাড়ায়। একই সঙ্গে স্ক্রিনের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণও অনেকটাই কমে যায়। শিশু যদি বই পড়ায় আগ্রহী হয়ে ওঠে, তবে সেটি তার মানসিক বিকাশের জন্যও অত্যন্ত ইতিবাচক।

৩. ছোট ছোট দায়িত্ব দিন

বয়স অনুযায়ী সহজ কিছু কাজের দায়িত্ব শিশুকে দেওয়া যেতে পারে। যেমন, খাবারের আগে জল এনে দেওয়া, খেলনা গুছিয়ে রাখা, নিজের বই ঠিক জায়গায় রাখা বা ছোটখাটো গৃহস্থালির কাজে সাহায্য করা। এতে শিশুর মধ্যে দায়িত্ববোধ, আত্মবিশ্বাস এবং পরিবারের সঙ্গে সংযোগ—তিনটিই তৈরি হয়। পাশাপাশি মোবাইলের বাইরে বাস্তব জীবনের কাজে আগ্রহও বাড়ে।

মনোবিদদের পরামর্শ, সন্তানকে শুধুমাত্র ফোন থেকে দূরে রাখাই লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়। বরং এমন একটি পারিবারিক পরিবেশ তৈরি করা দরকার, যেখানে শিশুর আনন্দ, শেখা এবং সম্পর্ক—সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হবে বাস্তব জীবন, স্ক্রিন নয়।

শিশুর আচরণে পরিবর্তন আনতে সময় লাগে। তাই রাগ বা শাস্তির বদলে ধৈর্য, নিয়মিত সময় দেওয়া এবং ইতিবাচক অভ্যাস গড়ে তোলাই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন