বিধানসভা নির্বাচনের মুখে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় নজিরবিহীন ছাঁটাই—এসআইআর প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য বিশ্লেষণে সামনে এসেছে এই চমকপ্রদ পরিসংখ্যান, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কোন জেলায় কত নাম বাদ গেল, আর গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলির চিত্র কী—তা নিয়েই এখন জোর আলোচনা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, সংশোধন প্রক্রিয়া শুরুর আগে রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। প্রথম ধাপে খসড়া তালিকা প্রকাশের সময়ই প্রায় ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জনের নাম বাদ পড়ে। এরপর ২৮ ফেব্রুয়ারির তালিকায় আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম ছাঁটাই করা হয়।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ছিল ‘বিবেচনাধীন’ তালিকাকে ঘিরে। প্রায় ৬০ লক্ষের বেশি ভোটার এই তালিকায় ছিলেন। শেষপর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, এদের মধ্যে ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনের নাম স্থায়ীভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে এই গোটা প্রক্রিয়ায় ৯০ লক্ষ ৮৩ হাজার ৩৪৫ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে গিয়েছে।
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে বড় ফারাক চোখে পড়েছে। মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ কেন্দ্র সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত—এখানে ১ লক্ষ ৮ হাজার ৪০০ জন বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে ৭৪ হাজার ৭৭৫ জনের নাম বাদ পড়েছে। অন্যদিকে, পুরুলিয়ার মানবাজার কেন্দ্রে তুলনামূলকভাবে প্রভাব কম, সেখানে ২ হাজার ৭৭১ জনের মধ্যে মাত্র ৭১ জনের নাম বাতিল হয়েছে।
রাজ্যের ‘হেভিওয়েট’ কেন্দ্রগুলিতেও বড়সড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে। ভবানীপুরে, যেখানে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিনিধিত্ব করেন, সেখানে ১৪ হাজার ১৫৪ জন বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে ৩ হাজার ৮৯৩ জনের নাম বাদ গেছে। নন্দীগ্রামেও একই ছবি—১০ হাজার ৬১৬ জনের মধ্যে ৩ হাজার ৪৬১ জনের নাম বাতিল হয়েছে।
কলকাতার ১১টি বিধানসভা কেন্দ্রের চিত্রও একরকম নয়। কলকাতা বন্দরে সবচেয়ে বেশি ছাঁটাই হয়েছে—৩২ হাজার ৩৩৮ জনের মধ্যে ১৩ হাজার ৩৯৫ জনের নাম বাদ। বিপরীতে, মানিকতলায় সবচেয়ে কম—১ হাজার ৬৫৪ জনের মধ্যে মাত্র ৭৩৩ জনের নাম বাদ পড়েছে।
এই বিপুল সংখ্যক ভোটার নাম বাদ যাওয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। শাসকদল আগেই এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। এখন পরিসংখ্যান সামনে আসতেই সেই বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।



