হরমুজ প্রণালী নিয়ে তীব্র সংঘাত! দখলের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, পাল্টা ইরানের বার্তা— ‘এক ফোঁটা তেলও বেরোতে দেব না’

হরমুজ প্রণালী দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। পাল্টা ইরানের সতর্কবার্তা— হামলা চললে পশ্চিম এশিয়া থেকে তেলের রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান জলপথ হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে আমেরিকা হরমুজ প্রণালী দখল করতে পিছপা হবে না। সেই মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। তেহরানের হুঁশিয়ারি— যদি তাদের উপর হামলা চলতেই থাকে, তবে পশ্চিম এশিয়া থেকে এক লিটার তেলও বাইরে যেতে দেওয়া হবে না।

বর্তমান সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালীতে একাধিক তেলবাহী জাহাজ আটকে পড়েছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে খবর ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ অচল করে দিচ্ছে। যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

ট্রাম্পের কড়া বার্তা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যদি তেহরান বিশ্বের তেল সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে আমেরিকা কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে।

সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন,
“যদি ইরান আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহকে জিম্মি করার চেষ্টা করে, তাহলে সেটাই হবে তাদের শেষ বড় ভুল। আমরা প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালী দখল করতেও পিছপা হব না।”

ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পাল্টা হুমকি ইরানের

ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ইরান। ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) স্পষ্ট জানায়, যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক আক্রমণ চলতে থাকে, তাহলে পশ্চিম এশিয়া থেকে তেল রপ্তানি কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হবে।

তাদের বার্তা,
“ইরানের উপর হামলা অব্যাহত থাকলে এই অঞ্চল থেকে এক লিটার তেলও বাইরে যেতে দেওয়া হবে না।”

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী

বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হরমুজ প্রণালী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এই প্রণালীর মাধ্যমে পরিবাহিত হয়।

পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল পৌঁছানোর প্রধান রুট এটি। প্রণালীর এক পাশে রয়েছে ইরান, অন্য পাশে ওমান।

এই পথ ব্যবহার করেই সৌদি আরব, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি ও কাতারের মতো দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছে যায়।

বিশ্ববাজারে আশঙ্কা

বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি এই জলপথ দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালী ঘিরে সামরিক সংঘাত আরও তীব্র হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্ব অর্থনীতির উপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন