আইএসএলের নতুন মরশুমে শুরু থেকেই নিজেদের আধিপত্যের ছাপ রেখে দিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। চেন্নাইয়িন এফসি-র শক্ত রক্ষণ ভেদ করে ২-০ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে শুধু তিন পয়েন্টই নয়, শিরোপা দৌড়ে নিজেদের মানসিক শক্তিরও প্রমাণ দিল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। তবে জয় এলেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন কোচ সের্জিও লোবেরা— তাঁর মতে, ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে আরও ধারাবাহিকতা দরকার।
কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে জয় দিয়ে মরশুম শুরু করার পর চেন্নাইয়িন ম্যাচেও জয়ের ধারা বজায় রাখে মোহনবাগান। ম্যাচের পর লোবেরা স্পষ্ট জানান, প্রথম গোলের পর দলের মনোযোগ কিছুটা নষ্ট হয়েছিল। তাঁর কথায়, এক গোলে এগিয়ে থাকা কখনও নিরাপদ নয় এবং দ্রুত দ্বিতীয় গোল করাই ছিল মূল লক্ষ্য। শেষ দিকে গোল আসায় চাপ কমলেও ভবিষ্যতে এমন সুযোগ সব সময় নাও মিলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
ম্যাচের আগে থেকেই লোবেরা ফুটবলারদের বড় ব্যবধানে জয়ের উপর জোর দিয়েছিলেন। সংক্ষিপ্ত লিগ ফরম্যাটে প্রতিটি ম্যাচের গুরুত্ব অনেক বেশি— তাই শুধু জয় নয়, গোল পার্থক্যও যে শেষ পর্যন্ত বড় ভূমিকা নিতে পারে, সে বার্তা স্পষ্ট ছিল দলের মধ্যে। কোচের বিশ্বাস, স্কোয়াডের ২২ জন ফুটবলারই প্রথম একাদশে খেলার যোগ্য, যা দলকে কৌশলগত দিক থেকে বাড়তি সুবিধা দিচ্ছে।
অন্যদিকে, চেন্নাইয়িন এফসি সহজ প্রতিপক্ষ নয় বলেই মনে করেছিলেন লোবেরা। মরশুমের প্রথম ম্যাচে মুম্বই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে বল দখল ও আক্রমণে ভালো ছন্দ দেখিয়েছিল তারা। কোচ ক্লিফোর্ড মিরান্ডাও স্বীকার করেন, সুযোগ তৈরি হলেও ফিনিশিংয়ের অভাবই দলের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চেন্নাইয়িনের রক্ষণাত্মক কৌশল ভাঙতে ম্যাচের আগে বিশেষভাবে সেটপিস অনুশীলন করানো হয়েছিল মোহনবাগান শিবিরে। পাল্টা আক্রমণের সম্ভাবনা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন লোবেরা। সেই কৌশলই মাঠে কার্যকর হতে দেখা যায়।
প্রায় সম্পূর্ণ ফিট স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামে মোহনবাগান। বিশাল কাইথ গোলপোস্ট সামলান, রক্ষণে শুভাশিস বসু, অ্যালবার্তো রদ্রিগেস ও মেহতাব সিং ভরসা দেন। মাঝমাঠে অনিরুদ্ধ থাপা ও আপুইয়া খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করেন, আর আক্রমণে লিস্টন কোলাসো, দিমিত্রি পেত্রাতোস ও জেমি ম্যাকলারেন ধারালো উপস্থিতি বজায় রাখেন।
মরশুমের শুরুতেই পরিষ্কার— মোহনবাগানের লক্ষ্য শুধু ম্যাচ জেতা নয়, প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে প্রভাবশালী ফুটবল খেলেই শিরোপা দখল করা।



