গোয়ার উত্তপ্ত রাতে আবারও ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান ডার্বি। stakes ছিল স্পষ্ট — সুপার কাপে সেমিফাইনালে উঠতে ড্র যথেষ্ট ছিল ইস্টবেঙ্গলের, কিন্তু জয় ছাড়া উপায় ছিল না মোহনবাগানের। ফলাফল? গোলশূন্য ড্র। আর তাতেই লাল-হলুদরা পৌঁছে গেল সেমিফাইনালে, সবুজ-মেরুনদের বিদায়।
প্রথমার্ধ থেকেই ইস্টবেঙ্গলের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। ব্রুজ়োর ছেলেরা স্পষ্টতই জানত তাঁদের লক্ষ্য — ড্র করলেই হবে। তবুও তারা আক্রমণাত্মক মনোভাব বজায় রাখে। রশিদ ও মিগুয়েল ফিগুয়েরার মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণে মোহনবাগানকে চাপে রাখে তারা। ২৪ মিনিটে মিগুয়েলের ক্রসে বিপিন সিংয়ের হেড বার উঁচিয়ে বেরিয়ে না গেলে হয়তো স্কোরলাইন বদলে যেত।
অন্যদিকে, হোসে মোলিনার মোহনবাগান পুরোপুরি নিষ্প্রভ। জেতার ম্যাচেও কোচ নামান একমাত্র স্ট্রাইকার জেমি ম্যাকলারেন-কে, যিনি ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণে বন্দি হয়ে পড়েন। কামিংস, পেত্রাতোস বা রবসন— কেউই ছিলেন না প্রথম একাদশে। এই রক্ষণাত্মক স্ট্র্যাটেজিই এখন হয়ে উঠেছে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল-এর তেমন কোনও কাজই ছিল না প্রথমার্ধে। উল্টো দিকে মোহনবাগানের গোলরক্ষক বিশাল কাইথ কয়েকবার দারুণ সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। বিরতির আগেই মিগুয়েলের জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন বিশাল।
দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা পরিবর্তন আসে। মোলিনা অবশেষে নামান কামিংস, পেত্রাতোস ও রবসনকে। আক্রমণের ছন্দ কিছুটা বাড়লেও ফলের দেখা মেলেনি। সবচেয়ে বড় সুযোগ আসে কামিংসের পায়ে, কিন্তু তাঁর শট গোলমুখে আটকে যায়। ফিরতি বলে রবসনের শটও বার উঁচিয়ে বেরিয়ে যায় — সেটিই ছিল মোহনবাগানের শেষ আশা।
ইস্টবেঙ্গলের কোচ কার্লোস ব্রুজ়ো কৌশলগতভাবে খেলার গতি কমিয়ে দেন। জানতেন, ড্র করলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত। তাঁর রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা ও মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণে বাগানের সব আক্রমণ ভেস্তে যায়। শেষ পর্যন্ত ড্র ফলেই লাল-হলুদরা উঠে যায় শেষ চারে।
এই ফলাফলে চাপ আরও বেড়ে গেল মোলিনার উপর। টানা দুর্বল পারফরম্যান্স, বিশেষ করে বড় ম্যাচে স্ট্র্যাটেজির ঘাটতি, এখন ক্লাব মহলে বিতর্কের বিষয়। সমর্থকরাও প্রশ্ন তুলছেন — “যে ম্যাচে জেতা বাধ্যতামূলক, সেখানে এত রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা কেন?”
ইস্টবেঙ্গলের জন্য এটি শুধুমাত্র সেমিফাইনালে ওঠা নয়, বরং আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার ম্যাচ। দল হিসেবে ব্রুজ়োর ছেলেরা দেখালেন দৃঢ়তা, ঐক্য ও সাহস। অন্যদিকে, মোহনবাগানের জন্য এটি আত্মসমালোচনার সময়। বড় নাম থাকা সত্ত্বেও, পরিকল্পনার অভাবে ফলাফল হাতছাড়া হচ্ছে বারবার।



