এসএসসি ‘দাগি অযোগ্য’ তালিকায় আরও দুই নাম, মোট সংখ্যা ১৮০৬

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রকাশিত এসএসসি-র ‘দাগি অযোগ্য’ তালিকায় যুক্ত হল রোশেনারা বেগম ও সঞ্চিতা দাসের নাম, আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষকরা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) আবারও আলোচনায়। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ অনুসারে প্রকাশিত SSC ‘দাগি অযোগ্য’ তালিকায় যুক্ত হল আরও দুই শিক্ষক। এর ফলে প্রাথমিক ভাবে ১৮০৪ জনের নাম থাকলেও তালিকার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৮০৬। শনিবার রাতে প্রকাশিত তালিকায় প্রথমে ১৮০৪ জনের নাম ছিল। তবে মধ্যরাতের পর কমিশনের ওয়েবসাইটে দেখা যায় নতুন সংযোজন— রোশেনারা বেগম ও সঞ্চিতা দাস। অর্থাৎ, ‘দাগি অযোগ্য’দের সংখ্যা আরও বাড়ল।

সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, সাত দিনের মধ্যে এই তালিকা প্রকাশ করতে হবে। আদালতের সেই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই কমিশন ওয়েবসাইটে তালিকা প্রকাশ করে। আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর যে এসএসসি নিয়োগ পরীক্ষা রয়েছে, সেখানে এই অযোগ্য প্রার্থীরা বসতে পারবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছে আদালত। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চই এই নির্দেশ দেন।

এসএসসি ‘দাগি অযোগ্য’ তালিকায় আরও দুই নাম, মোট সংখ্যা ১৮০৬

এসএসসি ‘দাগি অযোগ্য’ তালিকায় আরও দুই নাম, মোট সংখ্যা ১৮০৬
এসএসসি ‘দাগি অযোগ্য’ তালিকায় আরও দুই নাম, মোট সংখ্যা ১৮০৬

তবে তালিকা প্রকাশ হতেই নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ‘দাগি অযোগ্য’ বলে চিহ্নিত অনেক শিক্ষকই আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, এসএসসি শুধুমাত্র দায় এড়াতে এবং আদালতের চাপ সামলাতে তাড়াহুড়ো করে এই তালিকা প্রকাশ করেছে।

কমলেশ কাপাট নামে এক শিক্ষক বলেন, “এসএসসি কোন ভিত্তিতে এই তালিকা তৈরি করেছে? সুপ্রিম কোর্ট এখনও স্পষ্টভাবে বলেনি কারা যোগ্য আর কারা অযোগ্য। তাহলে এই তালিকার বৈধতা কতটা?” তাঁর দাবি, সোমবারই তাঁরা আদালতে মামলা করবেন।

এই পরিস্থিতিতে আবারও সামনে আসছে নিয়োগ দুর্নীতির জটিলতা। শিক্ষক সমাজে আতঙ্ক বাড়ছে, কারণ অনেকেই মনে করছেন, তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত নয়। একই সঙ্গে নতুন করে যোগ হওয়া নামগুলো নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন প্রার্থীরা।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এসএসসি-র নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছে। আদালতের একের পর এক নির্দেশে কমিশনকে পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। এর ফলে অনেক প্রার্থী চাকরির স্বপ্ন ভেঙে গিয়েছে। অন্যদিকে, অযোগ্য তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘দাগি অযোগ্য’ তালিকার প্রকাশ এসএসসি-র প্রতি আস্থা আরও ক্ষুণ্ণ করছে। একদিকে নিয়োগ পরীক্ষা সামনে, অন্যদিকে আদালতের নজরদারিতে কমিশনের পদক্ষেপ— সব মিলিয়ে প্রার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

রবিবার সকাল পর্যন্ত কমিশনের ওয়েবসাইটে তালিকার সংখ্যা স্থির রয়েছে ১৮০৬-এ। আগামী সপ্তাহেই এই বিতর্ক নতুন মোড় নিতে পারে আদালতে। এখন নজর থাকবে সুপ্রিম কোর্ট কী রায় দেয় এবং এসএসসি কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দেয় তার দিকে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন